
নিজস্ব প্রতিবেদক :: অপরাধ ও দুর্নীতি নির্মূলে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, সাবেক হুইপ, সাবেক মেয়র ও জেলা দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল—বিসিআরসির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মজিবর রহমান সরওয়ার এমপি বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে সব ধরনের দুর্নীতি থেকে রক্ষা করতে সামাজিকভাবে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দেশে যেন দ্বিতীয়বার কোনো ‘আয়নাঘর’ তৈরি না হয়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতি দমনে তারা বদ্ধপরিকর। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সহ-সভাপতি ও দৈনিক ভোরের সম্পাদক এস. এম. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে সরকার,গণমাধ্যম ও নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে,
এরপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সচেতন নাগরিক সমাজ ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান। গণমাধ্যম মানুষের সামনে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এম জি আর নাসির মজুমদার, সিআইপি বলেন, দুর্নীতি একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
রাওয়া ক্লাবের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম এ হক বলেন, দেশের পরিবর্তন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং আমলাতান্ত্রিক অবক্ষয় রোধের প্রত্যাশা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি আসেনি। তিনি বলেন, সংসদের ৩০০ এমপির নীতি-নৈতিকতায় পরিবর্তন এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের পরিবর্তন ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব।
বাসসের নিউজ এডিটর আব্দুল বাতেন সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা এবং পেশাগত নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলা ভিশনের নির্বাহী সম্পাদক বদরুল আলম নাবিল সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে; কোনো দল বা বিশেষ গোষ্ঠীর সাংবাদিক হিসেবে নয়। সংবাদ পরিবেশনে পেশাগত দায়িত্ব ও নিরপেক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ এনাম মুন্না বলেন, তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময়ে অপরাধ ও দুর্নীতির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা নির্মূলের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিশু সাহিত্যিক সোনিয়া হোসেন শিশু-কিশোরদের নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অপরাধ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজের জন্য প্রস্তুত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অপরাধের সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি অপরাধের কারণ, এর সামাজিক প্রভাব এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়েও জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ পরিবেশনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় সাংবাদিক, পেশাজীবী, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

