ঢাকাSunday , 27 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কীটনাশকযুক্ত ঘাস খেয়ে মারা যাওয়া গরু নিয়ে ইউপি সদস্যের নীল নকশা

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬৯

স্টাফ রিপোর্টার :: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়া এলাকায় ইউপি সদস্য হাসান বিশ্বাসের দুটি গরুর মৃত্যু ও আরও একটি গরু অসুস্থ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইউপি সদস্য হাসান বিশ্বাস বিষ প্রয়োগের অভিযোগ তুললেও তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শহীদ মল্লিক। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তাকে ও স্থানীয় কয়েকজনকে ফাঁসাতে মৃত গরুর ঘটনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

শহীদ মল্লিক বলেন, হাসান বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে গরুতে বিষ প্রয়োগের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
শহীদ মল্লিকের দাবি, হাসান বিশ্বাসের মাছের ঘের ও গরুর খামার সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। গরু মৃত্যুর আগের দিন ঘাস মারার জন্য কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল। ওই কীটনাশকযুক্ত ঘাস খেয়েই গরুগুলোর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, এরপরই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে সময় গরুতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ করা হচ্ছে, সেই সময় আমি সেখানে ছিলাম না। ঘের ও খামারের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’
অপর অভিযুক্ত বাবুল হাওলাদারও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন আমরা কয়া বাজারে ছিলাম। বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা চাইলে তা যাচাই করতে পারে।’
অন্যদিকে ইউপি সদস্য হাসান বিশ্বাসের দাবি, তাঁর দুটি গরু বিষ প্রয়োগে মারা গেছে এবং আরও একটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি শহীদ মল্লিক ও বাবুল হাওলাদারকে সন্দেহ করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ঘটনার রাতে তাঁদের ঘেরের আশপাশে দেখা গেছে।
তবে শহীদ মল্লিক বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণের জন্য তদন্ত করা হোক। সিসিটিভি ফুটেজ, গরুর মৃত্যুর কারণ এবং ঘাসে ব্যবহৃত কীটনাশক—সবকিছু পরীক্ষা করা হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।’
ঘটনার পর নলছিটি প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসক ডা. মনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুগুলো পরীক্ষা করেন। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও গরুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে শহীদ মল্লিকের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরোনো বিরোধকে নতুন করে ইস্যু বানিয়ে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

নলছিটি থানার ওসি তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, গরু মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সিসিটিভি ফুটেজ, গরুর নমুনা, ঘাস ও কীটনাশক পরীক্ষা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা হলে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে পারে।