
উপজেলা প্রতিনিধি, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) :: বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়ায় পান চুরির অভিযোগে ব্যবসায়ী কালাচাঁদ দাসের নেতৃত্বে চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের শহীদ সিকদার নামে এক ব্যক্তিকে আমগাছের সঙ্গে বেঁধে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
নির্যাতন শেষে একপর্যায়ে তাকে মৃত নিশ্চিত মনে করে খালে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানান। প্রাণ বাঁচাতে তিনি খাল থেকে উঠে নিজের বাড়িতে পৌঁছান।
পরবর্তীতে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার দুই পায়ের দুটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়। এছাড়া তার দুই পা পচে গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়ের বোয়ালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
চিকিৎসকরা জানান, তাকে বাঁচাতে হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব না হওয়ায় তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
শহিদ সিকদারের পরিবারের দাবি, ভুক্তভোগীর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি লিভার ফুলে গেছে। বর্তমানে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়িতে রয়েছেন এবং মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
এ বিষয়ে ৪ জনকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এদিকে দোষী ব্যক্তিকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে নিজের আর্থিক দাম্ভিকতার পরিচয় দেওয়া ব্যবসায়ী কালাচাঁদকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেন জানান, শহিদ সিকদারের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার চলছে বলেও তিনি জানান।

