ঢাকাTuesday , 6 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল নগরীতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও হানি ট্র্যাপের বিরুদ্ধে সফল অভিযান : সুনাম কুড়িয়েই বদলি কোতোয়ালি ওসি আল মামুনুলের

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১০

মো: আম্মার হোসেন আম্মান :: বরিশাল নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমন, হানি ট্র্যাপসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগে দ্রুত সাড়া দিয়ে দায়িত্ব পালনে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ১০ মাসের মধ্যেই তাকে বদলি করা হয়েছে। তার বদলির খবরে থানা পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক বাসিন্দার মধ্যেও দেখা দিয়েছে বিস্ময় ও নানা আলোচনা।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরীর অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেন ওসি আল মামুনুল ইসলাম। থানার নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অভিযান জোরদার, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকবিরোধী অভিযানকে অন্যতম অগ্রাধিকার দেন ওসি আল মামুনুল ইসলাম। তার নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মাদক কারবারে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়।
থানা পুলিশের সদস্যদের ভাষ্য, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হয়নি। চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার কারণে কোতোয়ালি থানা পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ছিল, তখন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন ওসি আল মামুনুল ইসলাম। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তাদের গতিবিধির ওপর নজরদারির পাশাপাশি অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের নামে নগরীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, মারামারি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত ছিল।
আলোচিত হানি ট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধেও অভিযান
বরিশাল নগরীতে আলোচিত হানি ট্র্যাপ চক্রের তৎপরতার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেয় কোতোয়ালি থানা পুলিশ। চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত, তাদের কর্মকাণ্ডের ধরন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ ধরনের জটিল ও স্পর্শকাতর অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় ওসি আল মামুনুল ইসলামের সরাসরি তদারকি ও নেতৃত্ব পুলিশের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব পালনে বাড়তি গতি তৈরি করে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

রাজনৈতিক সহিংসতা ও অপরাধ দমনে তৎপরতা
সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোতোয়ালি থানা পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্বে থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সংঘাতের আশঙ্কা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন ওসি আল মামুনুল ইসলাম।

থানার অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতায় গুরুত্ব
শুধু মাঠপর্যায়ে অভিযান নয়, থানার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমেও শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ওসি আল মামুনুল ইসলাম। পুলিশের একাধিক সদস্য জানান, গুরুত্বপূর্ণ মামলার অগ্রগতি, অপরাধ পরিস্থিতি ও চলমান অভিযানের বিষয়ে নিয়মিতভাবে সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করতেন তিনি।
অপরাধের ধরন অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে থানার কার্যক্রমকে গতিশীল রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তারা।
সাধারণ মানুষের অভিযোগে দ্রুত সাড়া দেওয়ার চেষ্টা
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের ভাষ্য, থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শোনার চেষ্টা করতেন ওসি আল মামুনুল ইসলাম। আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিতেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ একটি থানার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করাও তার দায়িত্বকালের অন্যতম দিক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

মাত্র ১০ মাসেই বদলি, বিস্মিত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা
দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ১০ মাসের মধ্যেই ওসি আল মামুনুল ইসলামের বদলির খবরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের অনেক সদস্য বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের মধ্যেও তাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে।

থানা পুলিশের একাধিক সদস্যের মতে, দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ওসি আল মামুনুল ইসলাম সক্রিয় ছিলেন। তার নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে কোতোয়ালি থানার কার্যক্রমে গতি এসেছিল।

 

একজন কর্মকর্তার কাজের মূল্যায়ন হয় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতার মাধ্যমে। সেই বিবেচনায় প্রায় ১০ মাসের দায়িত্বকালে ওসি আল মামুনুল ইসলাম নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।

বিদায়ের সময় প্রশংসায় সহকর্মী-সাধারণ মানুষ
দায়িত্বের মেয়াদ তুলনামূলকভাবে কম হলেও অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়তার কারণে সহকর্মী ও স্থানীয়দের একটি অংশের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন ওসি আল মামুনুল ইসলাম। বিশেষ করে মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

তবে বদলি পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের মধ্য দিয়ে ওসি আল মামুনুল ইসলাম তার পেশাগত দায়িত্ব আরও দক্ষতার সঙ্গে পালন করবেন—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।।

দায়িত্ব পালনের মাত্র ১০ মাসের মাথায় কোতোয়ালি মডেল থানা থেকে তার বদলি হলেও বরিশাল নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তার সময়কালের বিভিন্ন অভিযান ও তৎপরতা সহকর্মী এবং স্থানীয়দের মাঝে আলোচনায় থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।