ঢাকাWednesday , 7 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে হচ্ছে ফোর লেন ও ফুটওভার ব্রিজ, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা 

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৯৮

ধীমান ঢালী, ববি প্রতিনিধি :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সামনে দীর্ঘদিনের সড়ক নিরাপত্তা ও যানজটের সমস্যা নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক বিভাগ। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নির্মাণ করা হবে ফোর লেন সড়ক ও ফুটওভার ব্রিজ। একই সঙ্গে দপদপিয়া টোল প্লাজা থেকে মাইশা চত্বর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি কংক্রিটের (আরসিসি) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফোর লেন সড়কের পাশাপাশি উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য আলাদা পথ রাখা হবে। শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে সড়ক পারাপারের জন্য নির্মাণ করা হবে ফুটওভার ব্রিজও। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যেই এসব উন্নয়নকাজের নির্মাণপর্ব শুরু হতে পারে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিনের যানবাহনের চাপ, অনিয়ন্ত্রিত পারাপার এবং পথচারীদের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দপদপিয়া সেতু থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে মাইশা চত্বর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ আরও টেকসই ও নিরাপদ হবে।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবিতে এবার বাস্তব উদ্যোগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরাপদ সড়ক, ফুটওভার ব্রিজ ও পর্যাপ্ত সড়ক প্রশস্তকরণের দাবি দীর্ঘদিনের। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দা এই সড়ক ব্যবহার করেন। ব্যস্ততম এ সড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও বিভিন্ন ধরনের ভারী যান চলাচল করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা, ফুটওভার ব্রিজ এবং সড়ক প্রশস্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ফজলে রাব্বি দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফোর লেন ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান।

দপদপিয়া টোল থেকে মাইশা চত্বর—পুরো সড়ক হবে আরসিসি

সড়ক বিভাগের পরিকল্পনায় শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের অংশ নয়, দপদপিয়া টোল প্লাজা থেকে মাইশা চত্বর পর্যন্ত পুরো সড়ককে আরও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি কংক্রিটের (আরসিসি) করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সড়কটি বরিশাল নগরীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করায় সড়কটির ওপর চাপও অনেক বেশি। ফলে টেকসইভাবে সড়ক নির্মাণ করা গেলে রক্ষণাবেক্ষণের চাপ কমার পাশাপাশি যাতায়াত আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।

বরিশাল সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ফজলে রাব্বি বলেন, “দপদপিয়া টোল থেকে মাইশা চত্বর পর্যন্ত সড়কটি কংক্রিটের করা হবে, যাতে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়। ববি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ক্যাম্পাসের সামনে ফোর লেন ও ফুটওভার ব্রিজ করা হবে।”

থাকবে ড্রেনেজ ও পথচারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফোর লেন নির্মাণের পাশাপাশি পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা যাতে সড়ক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য সড়কের সঙ্গে হাঁটার ব্যবস্থা রাখা হবে। ফলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের মূল সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের প্রয়োজন কমবে।

বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে প্রতিদিন যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল হয়, সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অবকাঠামোগত এ উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

চার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব

শুধু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সড়ক নয়, পুরো বরিশাল বিভাগের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করার বৃহৎ পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ফজলে রাব্বি।

তিনি জানান, বরিশাল বিভাগের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি দ্রুত অনুমোদন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ প্রকল্পের আওতায় বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্ত ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে মুলাদী-হিজলাসহ বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

সড়ক বিভাগের এ বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বরিশাল বিভাগের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে শিল্প-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

স্বস্তি ফিরবে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফোর লেন ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “দপদপিয়া সেতু থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কাছে দুর্ঘটনার আতঙ্কের নাম ছিল। প্রতিদিন সড়ক পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিতে হতো। নতুন প্রকৌশলী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমাদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে সড়ক ও ফুটওভার ব্রিজের উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা আনন্দিত।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সামনে ফোর লেন ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ হলে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, সাধারণ পথচারীরাও উপকৃত হবেন। পাশাপাশি সড়কটি আরসিসি করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং বরিশাল-দক্ষিণাঞ্চলীয় সড়ক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

একসঙ্গে নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বার্তা

সড়ক বিভাগের এই উদ্যোগকে কেবল একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফোর লেন, ফুটওভার ব্রিজ, পথচারী চলাচলের ব্যবস্থা, ড্রেনেজ এবং দপদপিয়া টোল থেকে মাইশা চত্বর পর্যন্ত আরসিসি সড়ক—সব মিলিয়ে এটি ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।

বিশেষ করে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শুরু হলে দ্রুতই এর সুফল পেতে শুরু করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এ সড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে কাজ বাস্তবায়ন হলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক শুধু নিরাপদই হবে না, বরং দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথ আরও আধুনিক, টেকসই ও জনবান্ধব রূপ পাবে।