
নিজস্ব প্রতিবেদক :: পটিবাড়ী সার্বজনীন দূর্গা ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের নামে দলিলকৃত সম্পত্তি জবর দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উজিরপুর উপজেলা কৃষক লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হরশিৎ মন্ডল ওরফে কদম মন্ডল ও তার ভাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সঞ্জিত মন্ডলের বিরুদ্ধে।
মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধারে মন্দির সভাপতি সুনিল কুমার বালা বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এডিএম কোর্ট একটি মামলা দায়ের করেছে। ইতিমধ্যেই মন্দিরের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে উজিরপুর সেটেলমেন্ট অফিস। এমনকি মাঠ পর্চা টেম্পারিং করে ২ শতক জমি নতুন খতিয়ান করে কেটে নেওয়ার প্রমান পেয়েছে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস। আগামী ২ নভেম্বর এ বিষয়ে সমাধান করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সেটেলমেন্ট অফিসের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। মন্দিরের সম্পত্তি দখলের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক নিকুঞ্জ বালা পলাশের বিরুদ্ধে নানান প্রপোগন্ডা ছড়াচ্ছে ওই ভূমিদস্যুরা।
সূত্র জানায়, ২০১১ সালে পটিবাড়ি মৌজার (জেএল নং ৭ এর এসএ ৮৩ খতিয়ানের ৩১০ দাগ থেকে ৩ শতক জমি পটিবাড়ী সার্বজনীন দূর্গা ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের নামে দলিল করে দেন মৃত রাজেন্দ্র নাথ মন্ডলের পত্র কার্তক মন্ডল, সুভাষ মন্ডল ও সুশিল মন্ডল। মন্দিরের নামে দলিল দাতাদের নামে বিএস মাঠ পর্চায়ে (গেজেড ভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়) থাকা ৩ শত জমির মধ্যে ২ শতাংশ জমি টেম্পারিং করে কেটে নেয় উপজেলা কৃষকলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হরশিৎ মন্ডল ওরফে কদম মন্ডল ও তার ভাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সঞ্জিত মন্ডল।
সম্প্রতি দূর্গা মন্দিরের উত্তর পাশে থাকা কালি মন্দির দখল করে নিয়ে সেখানে একটি ভবন তৈরী করার চেষ্ঠা করে। এসময় মন্দির কমিটির সভাপতি সুনিল বালাসহ অন্যান্যরা বাঁধা দিলে দ্রুত তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর মন্দিরের সভাপতি বাদী হয়ে বরিশাল এডিএম কোর্ট একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শুনানী শেষে মন্দিরের সম্পত্তিতে থাকা স্থাপনা নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে নির্দেশনা দেয়া হয়।
ইতিমধ্যেই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মন্দিরের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এদিকে মন্দিরের নামে দলিল দাতাদের নামে বিএস মাঠ পর্চায়ে (গেজেড ভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়) থাকা ৩ শত জমির মধ্যে ২ শতাংশ জমি টেম্পারিং করে কেটে নেয়ার প্রতিকার চেয়ে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে অভিযোগ দাখিল করেন জমি দাতা কার্তীক মন্ডল, সুভাষ মন্ডল ও সুশিল মন্ডল।
বুধবার এ বিষয়ে শুনানী চলাকালে আদালতের বিচারক টেম্পারিং করে মন্দিরের নামে দলিল দেওয়া সম্পত্তি থেকে ২ শতক জমি কেটে নেওয়ার প্রমান পান। এ সময় ভূমি অফিসে থাকা লোকজন মন্দিরের জমি কেটে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা কৃষকলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হরশিৎ মন্ডল ওরফে কদম মন্ডল ও তার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা সঞ্জিত মন্ডলকে তিরস্কার করেন। ঘটনার পর বুধবার সকালে বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মন্দিরের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক নিকুঞ্জ বালা পলাশকে জড়িয়ে বিভ্রান্তমুলক তথ্য প্রদান করে হরশিৎ মন্ডল ওরফে কদম মন্ডল ও তার ভাই সঞ্জিত মন্ডল।
এ বিষয়ে সাংবাদিক নিকুঞ্জ বালা পলাশ বলেন, উপজেলা কৃষকলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হরশিৎ মন্ডল ওরফে কদম মন্ডল ও তার ভাই আ’লীগ নেতা সঞ্জিত মন্ডল একই বাড়ির বাসিন্দা। তাদের সাথে মন্দিরের সম্পত্তি দখলসহ তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব বিরোধ রয়েছে।
পলাশ বলেন, সাংবাদিকতা করার সুবাদে ৩০ বছর ধরে তিনি বরিশাল নগরীতে বসবাস করছেন। এলাকায় না থাকার সুবাদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সাবেক ইউপি মেম্বর ও উপজেলা কৃষকলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হরশিৎ মন্ডল ওরফে কদম মন্ডল ও তার ভাই নামধারী আওয়ামী লীগ নেতা সঞ্জিত মন্ডল এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে তার অনেক সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান আছে। এসব মামলাকে প্রভাবিত করতে নতুন নাটক মঞ্চ করতে চাচ্ছে ওই আওয়ামী লীগ নেতারা।
এ বিষয়ে উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়ার দাবী জানান মন্দির কমিটিসহ এলাকাবাসী।

