ঢাকাFriday , 16 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষষ্ঠী উপলক্ষে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৫

মারুফ হোসেন মিঠুন  :: শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষষ্ঠী উপলক্ষে বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরীর শংকর মাঠসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাভিদ খান  তুষার, মহানগর বিএনপির সদস্য মারুফ হোসেন সহ আরো অনেকে । এ সময় পূজার সার্বিক পরিবেশ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, আয়োজকদের প্রস্তুতি এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে মনিরুজ্জামান খান ফারুক আয়োজক কমিটির সদস্য, স্থানীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং উৎসবের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দমুখর রাখতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে খোঁজ নেন। একই সঙ্গে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বরিশালসহ সারা দেশে যেন শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে হিন্দু, মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ধর্ম যার যার, কিন্তু দেশ সবার। প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করার অধিকার রয়েছে। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা কিংবা ধর্মীয় উৎসব পালনে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “বরিশালসহ সারা বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে আনন্দ ও ভক্তির মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সবাইকে আন্তরিক থাকতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে।”

শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব উদযাপনে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরও উপলক্ষ। উৎসবের আনন্দ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি পূজামণ্ডপের আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, উৎসবের দিনগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিভেদ নয়, ঐক্য; বিদ্বেষ নয়, ভালোবাসা—এই চেতনা ধারণ করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

বরিশালের পূজামণ্ডপে উৎসবের আমেজ

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আয়োজন শুরু হওয়ায় পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।

এ সময় পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন মনিরুজ্জামান খান ফারুক। দুর্গোৎসবের প্রতিটি দিন যেন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে অতিবাহিত হয়, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বরিশালের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।

সম্প্রীতির বন্ধনে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ

শারদীয় দুর্গোৎসবের এই আনন্দঘন সময়ে মনিরুজ্জামান খান ফারুকের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা সামনে এসেছে। সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

বরিশালসহ সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হোক—এটাই সবার প্রত্যাশা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠুক সম্প্রীতি ও মানবিকতার বাংলাদেশ।

সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা, সবার নিরাপত্তা এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ—এই চেতনায় শারদীয় দুর্গোৎসব হয়ে উঠুক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার উপলক্ষ।