ঢাকাSunday , 18 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কথা বলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন হারুন সিকদারের, বিএনপির তৃণমূলে ক্ষোভ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৪৯

বিশেষ প্রতিনিধি, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও অনুদান বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা ও পৌরসভার মেয়র পদপ্রত্যাশী হারুন অর রশিদ সিকদারকে নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা এবং বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের মধ্যে তিব্র অসন্তোষ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে হারুন অর রশিদ সিকদার বাকেরগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং অনুদান বিতরণ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানের অনুমতি নিয়ে মণ্ডপগুলোতে গেছেন এবং বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে বক্তব্য দিয়েছেন। তার সঙ্গে উপজেলা বা পৌর বিএনপি’র কোন দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন না।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে দলীয় প্রতিনিধি হিসেবে যাওয়ার দায়িত্ব তাঁকে কে দিয়েছে? এ বিষয়ে দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা:
হারুন অর রশিদ সিকদার অতীতে ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন বলে জানা যায়। বর্তমানে উপজেলা বিএনপিতে তাঁর নির্দিষ্ট কোনো পদ নেই, সদস্য পদ রয়েছে বলে উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়।

আসন্ন পৌর নির্বাচনকে ঘিরে মেয়র পদে তাঁর প্রার্থিতা নিয়েও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে একজন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ আইনগতভাবে অস্বাভাবিক নয়। নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতা, রাজনৈতিক অবস্থান ও জনসমর্থনই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুকুল বেগম বলেন, “হারুন সিকদারের মেয়র প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ থাকতে পারে। তবে পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মতো তাঁর ভোটব্যাংক নেই বলে আমি মনে করি। অর্থের জোরে প্রচার-প্রচারণা চালালেও পৌরসভা বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্য নন।”

অন্যদিকে, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাল হোসেন বিপ্লব বলেন, “হারুন সিকদার পৌরসভা বিএনপির কেউ নন। পৌরসভায় মেয়র হওয়ার মতো যোগ্যতা তাঁর নেই। তাঁর চেয়ে যোগ্য প্রার্থী পৌরসভা বিএনপিতে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো দুঃখজনক।”

তাঁদের বক্তব্যে হারুন সিকদারের দলীয় অবস্থান ও মেয়র পদে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাংশের আপত্তির বিষয়টি স্পষ্ট উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান বলেন, “হারুন সিকদার যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা বলে নাম ব্যবহার করে পৌরসভার দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক। এ ধরনের ভিত্তিহীন বক্তব্য দেওয়া তাঁর ঠিক হয়নি। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের জন্য বিএনপির প্রতিনিধি দলের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়নি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতেই পারেন, তবে দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়। বাকেরগঞ্জ উপজেলায় দলের প্রতিনিধি হলেন সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান।”

অভিযোগের বিষয়ে হারুন অর রশিদ সিকদার বলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতি করেন বলেই পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে প্রচারণা চালিয়েছেন। এ বক্তব্যের কারণে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে তাতে তাঁর কিছু করার নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে হারুন অর রশিদ সিকদারের বক্তব্য, দলীয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের দাবি এবং তাঁর মেয়র প্রার্থিতা নিয়ে বাকেরগঞ্জের স্থানীয় বিএনপিতে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের আপত্তি রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে।