ঢাকাFriday , 30 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শেরেবাংলা সম্মাননা পেলেন লেখক, গবেষক ও বিশ্লেষক আরিফ রহমান

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬৮

নিজস্ব প্রতিবেদক :: শেরেবাংলা আবুল কাশেম ( এ কে) ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে অনুষ্ঠিত হলে  সাহিত্য সম্মেলন-২০২৬। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বরিশাল বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোট, বরিশালের আয়োজনে এ সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরিশাল বিভাগের শতাধিক কবি, লেখক,গবেষক, বিশ্লেষক ও কথা সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিজন অংশ নেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, অমৃতলাল দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মাহবুবুল হক, লেখক ও গবেষকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোট, বরিশালের আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগর। সঞ্চালনায় ছিলেন কবি পবিত্র মুখোপাধ্যায়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কবিতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাসস এর চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি নয়ন আহমেদ, কবি শাহীন চৌধুরী, কবি আল হাফিজ ও কবি আরিফ আহমেদ মুন্না। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কবি মুস্তফা হাবিব।
সাহিত্য সম্মেলনে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা এবং তাঁর স্মৃতি ও অবদান তুলে ধরা হয়। এ সময় অধ্যাপক মো. মোসলেম উদ্দিন শিকদারের রচিত ‘শেষ-ই-বাংলা: জীবন ও কর্ম’ এবং শেরেবাংলাকে নিয়ে প্রকাশিত ‘ছোটদের শেরেবাংলা’ বইয়ের ওপর আলোচনা করেন কবি জামান মনির ও লেখক মাহমুদ ইউসুফ।
অনুষ্ঠানে কবি লেখক ও সাহিত্যিকদের হাতে শেরে বাংলা সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথি কবি আব্দুল হাই শিকদার। লেখক, গবেষক ও বিশ্লেষক হিসেবে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন আরিফ রহমান। তার লেখা একাধিক পত্রিকা, অনলাইন ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন অনলাইন এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশে পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত হয়।
আয়োজকরা জানান, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশ ও বিশ্লেষণের দিক বিবেচনায় নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মনীষীদের অবদান তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।শের ই বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে তৎকালীন অনেক কবি সাহিত্যিক লেখক বিশ্লেষক সাংবাদিক বুদ্ধিজীবীর যোগাযোগ ছিল। তিনি সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের সামাজিক ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি করতেন। তার সময়ের বাঙালি মুসলমান সমাজে যে নবজাগরণ সৃষ্টি হয়, সেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব,সাহিত্য চর্চা শিক্ষা বিস্তার পরস্পরের পরিপূরক হয়ে কাজ করে। বিশেষ করে কাজী নজরুল ইসলামের মতো কবি ও সাহিত্যিকদের সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রসঙ্গ ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য। নজরুলের বিদ্রোহী সাহিত্য যেমন সামাজিক বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করেছিল, তেমনি ফজলুল হকের গণমুখী রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে।তিনি সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পরিবর্তে বাংলার মানুষের অভিন্ন সার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে তার সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালির সামগ্রিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বাংলার ইতিহাসে শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হক অনন্য ও বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব।