ঢাকাSaturday , 31 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উজিরপুরে বি.এন.খান কলেজের নাম ব্যবহার করে সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল চেষ্টা, প্রতিবাদ-সম্মেলন

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :: উজিরপুরে বি.এন.খান কলেজের নাম ব্যবহার করে সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল চেষ্টা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু একটি হিন্দু পরিবারের ২৯ শতাংশ পৈতৃক জমি ও পুকুর জবর দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জমির রেকর্ড নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন জমির ওয়ারিশরা। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সম্পত্তির ওয়ারিশদের পক্ষে বক্তব্য দেন সঞ্জয় চন্দ্র দাস। এ সময় পরিবারের অন্যান্য ওয়ারিশরাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জয় চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, উজিরপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে তাঁদের পরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ২৯ শতাংশ জমি ও পুকুর (১৯৫৯ সাল থেকে) দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি উপজেলার আলহাজ্ব বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের নাম ব্যবহার করে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখিত মোহাম্মদ আজিজ খান ও মো. হাবিব খানের নেতৃত্বে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫), সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মিয়া (৬৫) এবং গভর্নিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ নয়ন মিয়ার (৫০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনের এ সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।

সঞ্জয় জানান, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে উজিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিরোধপূর্ণ জমির পুকুর পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। নিজেদের ভোগদখলে থাকা পৈতৃক সম্পত্তিতে এ ধরনের কার্যক্রমের প্রতিবাদ জানালে আমার চাচা অমল চন্দ্র দাসসহ পরিবারের অন্যান্য ওয়ারিশদের হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। এ ঘটনায়
উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এর আগে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর উজিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান সঞ্জয় চন্দ্র দাস।

সঞ্জয় চন্দ্র দাস আরও জানান, তাঁর দাদা নারায়ণ চন্দ্র দাসের সূত্রে পাওয়া ওই জমি ও পুকুর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তাঁদের দাবি, ১৯৫৯ সাল থেকে অদ্যাবধি সম্পত্তিটি তাঁদের ভোগদখলে রয়েছে। এদিকে সম্পত্তির দখল রক্ষা ও প্রতিপক্ষের অবৈধ হস্তক্ষেপ ঠেকাতে ২০২০ সালে বরিশালের উজিরপুরের সিভিল সহকারী জজ আদালতে (চীরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা) দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়। দেওয়ানি মোকদ্দমা নম্বর ১৪/২০২০। মামলাটি সম্পত্তির ওপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি চেয়ে করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৬ নির্ধারিত রয়েছে।

এ ছাড়া সম্পত্তি নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ৪৮৯২/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান সঞ্জয় চন্দ্র দাস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি ও ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশনা রয়েছে। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও তাঁদের কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সঞ্জয় চন্দ্র দাস সংবাদ সম্মেলনে জানান, হাইকোর্টের রুল-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে মিস কেস নম্বর ১৯৪৭/২০২৬ চলমান রয়েছে। এ মামলার শুনানির তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২৬ নির্ধারিত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় ০৭/২০২৬ নম্বরের আরেকটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. তাজুল ইসলাম মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাঁদের জমি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে বি.এন. খান ডিগ্রি কলেজের অন্যান্য সম্পত্তির সঙ্গে একত্র করে দেন । তিনি দাবি করেন, আপত্তি ও আপিল পর্যায়ের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত যাঞ্চ স্তর পর্যায়ে তাঁদের না জানিয়ে এবং কোনো নোটিশ না দিয়েই জমি কর্তন করা হয়। কলেজের অন্যান্য জমির সঙ্গে তাঁদের জমি একত্র করে ১৫৪২ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সঞ্জয় চন্দ্র দাসের দাবি, অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এ ধরনের অনিয়ম ও তঞ্চকতা করা হয়েছে। এতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার দেওয়া গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে এ-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

সঞ্জয় জানান, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিটি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানাধীন উজিরপুর মৌজায় অবস্থিত। সম্পত্তিটির জেএল নম্বর ৯২, এসএ খতিয়ান নম্বর ৭৮৮ ও ৭৮৯, এসএ দাগ নম্বর ১৩৪, বিএস খতিয়ান নম্বর ১৩৫৫ এবং বিএস দাগ নম্বর ১৯৬৩। জমির মোট পরিমাণ ২৯ শতাংশ, যার মধ্যে একটি পুকুর রয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির সঙ্গে আরএস খতিয়ান নম্বর ২২১ ও ২২৩, এসএ খতিয়ান নম্বর ৭৮৮ ও ৭৮৯ এবং ডিপি খতিয়ান নম্বর ১৩৫৫-এর সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পৈতৃক সম্পত্তির ফিরে পেতে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা কামনা করেন ভুক্তভোগী ওয়ারিশ সঞ্জয়সহ অন্যান্যরা।

জমি ফিরে পেতে ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সঞ্জয় চন্দ্র দাস।

এ-বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো: মামুন খন্দকার জানান, অভিযোগের সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।