ঢাকাThursday , 5 November 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই নদীর পাড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ ইটভাটা

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক :: পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই নদীর পাড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ ইটভাটা।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটাটি নির্মাণের জন্য নদীর পাড়ের মাটিও কেটে নেওয়া হচ্ছে।আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে ইট পোড়ানোর কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

 

ইটভাটাটি চালু হলে এর কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে কর্ণফুলী নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার অবৈধ ইটভাটায় আগুন না দেওয়া এবং ইট পোড়াতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উপজেলার ইটভাটায় লিফলেট বিতরণ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। এছাড়াও অবৈধ ইটভাটায় আগুন না দিতে সতর্কও করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকস নামে ইটভাটাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে নির্মাণকাজের প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। দুই শতাধিক শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন। চলতি মাসেই ইট পোড়ানোর কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইট তৈরির জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি সংগ্রহ করে নদীর পাড়সংলগ্ন ভাটার জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বর্জ্য ও ইটের আধলা ফেলে জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। ইটভাটার পাশে শ্রমিকদের থাকার জন্য ঘরও নির্মাণ করা হচ্ছে। এর কাছেই রয়েছে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ধরনের ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে কর্ণফুলী নদী প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। এ ছাড়া ভাটার বর্জ্য, ইটের আধলা ও মাটি ফেলে নদীর পাড়ের জায়গা ভরাট করে দখল করা হলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে। এতে নদীর অন্য পাড়ে ভাঙন দেখা দিতে পারে। ফলে বনভূমি ও বসতভিটা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব বলেন, ইটভাটাটির কোনো অনুমোদন নেই বলে আমরা জানি। বিষয়টি জানিয়ে প্রশাসনকে চিঠিও দিয়েছি। ইটভাটাটি চালু হলে এলাকার বায়ুর মান খারাপ হবে। নদীর পাড়ে হওয়ায় এর বর্জ্য ও দূষণে নদীর পানিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এরই মধ্যে আশপাশে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশেই একটি লবণ কারখানা রয়েছে। দূষণের কারণে সেখানকার লবণের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই পরিবেশবিরোধী এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের উৎপাদন কার্যক্রম দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা জানে আলম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ২৬ বছরের পুরোনো। মাঝে তিন বছর উৎপাদন বন্ধ ছিল। কারণ, তখন প্রশাসন আমাদের ইটভাটা ভেঙে দিয়েছিল। তখন আমাদের চিমনির উচ্চতা ছিল ৭০ ফুট। এখন তা ৫০ ফুট করা হয়েছে। আমরা নতুন করে সবকিছু প্রস্তুত করেছি। শিগগিরই ইট পোড়ানোর কার্যক্রম শুরু হবে। কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হবে, কাঠ ব্যবহার করা হবে না। প্রতি মাসে সাত থেকে আট লাখ ইট তৈরি করা হবে। প্রতিটি ইট ১২ টাকা করে বিক্রি হবে।

এ বিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বোয়ালখালীর চরখিজিরপুর এলাকায় নদীর পাড়ে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের কোনো ধরনের অনুমোদন নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে ইটভাটাটি বন্ধ করা হবে। অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রমের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থান জিরো টলারেন্স।

ইটভাটার অনুমোদনের বিষয়ে জানতে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের ছাড়পত্র নেই। তবে ছাড়পত্র বা অনুমোদন নিয়ে ইটভাটা ও এর কার্যক্রম পরিচালনা করব।

এ বিষয়ে বোয়ালখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিস ফাতেমা বলেন, বোয়ালখালীতে মাত্র একটি ইটভাটার অনুমোদন রয়েছে। বাকি ইটভাটাগুলোর কোনো অনুমোদন নেই। সেগুলো অবৈধ। পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করতে এলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।