নিউজ ডেস্ক :: পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতে দীর্ঘ ৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয় ছিল সম্ভাবনার সূচনা। এবার টাইগাররা এগিয়ে গেল আরও এক ধাপ—দ্বিতীয় ম্যাচেও দাপুটে জয় তুলে নিয়ে গড়ল ইতিহাস। এই জয়ে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন সাফল্য ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের অধ্যায়।
পাকিস্তানের স্কোর ৩০/৬, অভিনব এক ঘটনার সাক্ষী বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। মনে হচ্ছিল, নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানেই গুটিয়ে যাবে পাকিস্তান। তবে ফাহিম আশরাফ ও অভিষিক্ত ধানিয়ালে অপেক্ষা বাড়ে টাইগারদের। রীতিমত কাঁপন ধরাচ্ছিলেন এই জুটি। কিন্তু শেষমেষ এমন কিছু হয়নি। প্রত্যাশিত এক জয়ই পেয়েছে বাংলাদেশ। এতে প্রথমবারের মত পাকিস্তানকে কোনো দ্বি-পাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারাল স্বাগতিকরা।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। জবাবে ইনিংসের ৪ বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। এতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ১৩৩ রানের জবাবে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় সফরকারীরা। মেহেদীর করা ওভারের শেষ বলে রানআউট সাইম আইয়ুব (৪ বলে ১)। পয়েন্টের দিকে ঠেলে ১ রান নিতে চেয়েছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পারভেজ–রিশাদের হাত ঘুরে আসার পর লিটনের গ্লাভসে ভাঙে উইকেট।
এরপর দ্বিতীয় ওভারে আউট মোহাম্মদ হারিস। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ হারিসকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন শরীফুল। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি প্রথম বলেই আউট হওয়া হারিস।
খানিকক্ষণ পর ফখর জামানও ৮ বলে ৮ রান করে ফেরেন। বাঁহাতি পেসার শরীফুলের বলে উইকেটকিপার লিটন দাসকে ক্যাচ দেন ফখর জামান।
এরপর নিজের প্রথম ওভারে পরপর দুটি ডেলিভারিতে হাসান ও মোহাম্মদ নেওয়াজকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের স্কোরটাকে ১৫/৫ বানিয়ে ফেলেন তানজিম হাসান। দুই নেওয়াজকেই উইকেটকিপার লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। হাসান ৬ বলে ও মোহাম্মদ নেওয়াজ ১ বল খেলে রানের খাতা স্পর্শ করতে পারেননি। ১৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে লজ্জার রেকর্ডও গড়ে দ্য গ্রিন ম্যানরা। এর আগে, ১৬/৫ ছিল পাকিস্তানের রেকর্ড, গেল বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
শুরুর ধাক্কা সামলে নেওয়ার আগেই অধিনায়কের উইকেট খুইয়ে ফেলে সফরকারীরা। মেহেদীর বলে লং অনে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে হৃদয়ের মুঠোবন্দী হয়ে ফেরেন ২৩ বলে ৯ রান করা আগা সালমান।
দলীয় হাফ-সেঞ্চুরির আগেই খুশদিল শাহর উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। জীবন পেয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি খুশদিল। মেহেদীর বলে এলবিডব্লু হয়ে ১৩ রানে ও দলীয় ৪৭ রানে ফেরেন তিনি।