তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন ব্রিজ নির্মাণের একপাশে পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়ক থাকলেও অপর পাশে নেই কোনো রাস্তা। স্থানীয় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শিহাব আহমেদের বাড়ি নির্মাণ করা হবে বলে এই ব্রিজটি ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের আগে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাস হয়েছিল। বর্তমানে ওই জমিতে রয়েছে সুপারির বাগান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শেখ শিহাব আহমেদ তার বাড়ি নির্মাণের জন্য পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কের কদমতলার বাজার এলাকায় খালের অপর পাড়ে জমি কিনেন। সেই সময় খালে কোনো ব্রিজ বা তার জমির আশেপাশে কোনো রাস্তা না থাকায় আওয়ামী লীগের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বাড়ির সামনে ৪০ লাখ টাকা ব্যায়ের এই সরকারি ব্রিজটি পাস করান।
তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরে এতদিন ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকেলও ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে পাস হওয়া ব্রিজটির আবারো নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলেও বিশেষ কোনো কারণে তা শুনছে না প্রশাসনের কর্তারা।
কদমতলার বাসিন্দা আলী জানান, ‘কদমতলা বাজার এলাকার একটু সামনে খালের ওপাড়ে হিন্দু পাড়ায় প্রায় ৩০টি পরিবার রয়েছে। সেই চলাচলের সড়কও নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন অনেকের কাছে দাবি করার পরেও সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ হয়নি। আওয়ামী সরকারের পতন হলেও নেতাদের বাড়ি নির্মাণ হবে তাই সরকার লাখ লাখ টাকা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করে দিচ্ছে তা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।’
কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বলেন, ‘স্থানীয় জনগণ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে নির্মাণ করা হচ্ছে এই ব্রিজ। কোনো রাস্তা ছাড়া এই ব্রিজ নির্মাণ, একজন ব্যক্তির বাড়ি নির্মাণ করবে, তাই করে দেয়া হচ্ছে— এটা সরকার ও জনগণের অর্থের অপচয় ছাড়া অন্য কিছু না।’
অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের আওতায় পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের খালে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ১১ ফুট প্রস্থ ব্রিজটি নির্মাণ কাজ পায় মেসার্স খান ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ওই অর্থব ছরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রিজ নির্মাণ শুরু না করলেও বর্তমানে সাব-ঠিকাদার হিসেবে মামুন মোল্লা নামের এক ব্যক্তি ব্রিজটির নির্মাণ কাজ করছে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানষ কুমার দাস জানান, কদমতলা যে ব্রিজটি নির্মাণ হচ্ছে সেই ব্রিজের সাথে দুই পাশে ১৫ মিটার করে রাস্তা করা হবে ব্রিজের সাথে। এছাড়া বর্তমানে ব্রিজের একপাশে রাস্তা সড়ক আছে এবং অপর পাশেও কাঁচা সড়ক আছে। পরবর্তী সময়ে সেখানেও সড়ক নির্মাণ করা হবে।’
তবে আওয়ামী লীগ নেতার জমির বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জানান, বিষয়টি তিনি তদন্ত করে দেখবেন এবং এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন।