নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল জিলা স্কুলের প্রাঙ্গণ ভরে উঠেছে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে। চোখে কৌতূহল, মুখে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। চারপাশে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অংশগ্রহণকারীদের মিলেমিশে তৈরি করেছে উৎসবের আমেজ। দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এসেছেন পরিবেশ নিয়ে প্রাণবন্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। এই ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্যোগের নাম ইকো অলিম্পিয়াড-২০২৫। পরিবেশগত ও জলবায়ু শিক্ষা প্রচারে এই উদ্যোগটি আন্দোলন আকারে ছড়িয়ে পড়ছে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা এই অলিম্পিয়াডে অংশ নেয় বরিশালের ১০টি বিদ্যালয়। অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়গুলো হলো: বরিশাল জিলা স্কুল, বরিশাল সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আছমত আলী খান (এ.কে) ইনস্টিটিউশন, গির্জামহল্লা, সদর, হলিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রূপাতলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলেকান্দা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কাউনিয়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সচেতনতার বার্তা ছড়াতে এতে শামিল হয়েছিল দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। আয়োজক সূত্রে প্রকাশ, প্রথম রাউন্ড শেষে বাছাই করা হবে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে, যারা দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেবে। অলিম্পিয়াডের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সচেতন করা। বিশেষ করে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক) ব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোই অন্যতম উদ্দেশ্য। ধাপে ধাপে দেশের ৬৪ জেলায় প্রতিযোগিতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়।ইকো-অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়া স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাত বলেন, “আমরা প্রতিদিন প্লাস্টিক ব্যবহার করি, কিন্তু এটা যে নদী, মাটি ও সমুদ্রের জন্য এত ক্ষতিকর, আগে বুঝিনি। এখন মনে হচ্ছে, আমি নিজেই পরিবর্তন শুরু করতে পারি।” অন্য শিক্ষার্থী রাব্বি যোগ করেন, “আমরা শুধু প্রতিযোগিতা করছি না, বরং শিখছি কিভাবে ছোট ছোট উদ্যোগেও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।” কর্মসূচির আহ্বায়ক আরিফুর রহমান শুভ বলেন, “বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় তরুণদের সংগঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য। তারই ধারাবাহিকতায় এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ উপকূলে লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক বন্যা ও খরার মতো চ্যালেঞ্জের মুখে। এসব সমস্যা সমাধানে তরুণদের জ্ঞান ও নেতৃত্বই বড় শক্তি।” ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান বলেন, “পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের শিক্ষার প্রসার একটি আন্দোলনে পরিণত করতে চাই আমরা। ইকো অলিম্পিয়াড সেই আন্দোলনেরই অংশ।” পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। ভবিষ্যত প্রজন্মকে সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ উপহার দিতে হলে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি।” অলিম্পিয়াড শেষে শিক্ষার্থীরা প্রতিজ্ঞা করে যে, সবুজ পৃথিবী গড়ার আন্দোলন যেন এখানেই থেমে না যায়। ছোট্ট উদ্যোগে শুরু হলেও তরুণদের চোখে ফুটে উঠেছে বড় স্বপ্ন—একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, ন্যায্য ও টেকসই বাংলাদেশ।