নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে বায়না করা জমিতে রাতের আঁধারে বালু ভরাট, থানায় অভিযোগ।
বরিশাল নগরীর কাশিপুর ইছাকাঠি এলাকায় যুবক হাউজিং এন্ড রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের জমি নিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছরের ভোগদখল বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। বায়না চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করেও দলিল না পাওয়ায় জমি ভোগদখলে রাখা কয়েক ক্রেতা অভিযোগ করেছেন- সম্প্রতি রাতের আধারে তৃতীয় এক ব্যক্তি তাঁদের জমিতে বালু ভরাট ও সাইনবোর্ড টানিয়ে দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বায়না করে টাকা পরিশোধের পরও দলিল পাননি ক্রেতা এসএম ফারুক আগৈলঝাড়া উপজেলার এসএম ফারুক ২০০৬ সালে যুবক হাউজিং-এর কাছ থেকে ৫ শতাংশ জমি বায়না করেন। তিনি শর্তানুযায়ী ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন, বকেয়া থাকে মাত্র ২০ হাজার টাকা। প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি দলিল গ্রহণ করতে না পারলেও এতদিন জমিটি তাঁর দখলেই ছিল।
সম্প্রতি ওই জমিতে রাতের অন্ধকারে অন্য এক ব্যক্তি নিজের মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড টানালে এসএম ফারুক এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগপত্রে এসএম ফারুক উল্লেখ করেন- ২৭ নভেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে তাঁর বায়না করা আমার জমিতে থাকা ব্যক্তিগত সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক ব্যক্তি বালু ভরাট করেন। বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি জানান, তিনি যুবক হাউজিংয়ের সদস্য এবং প্রতিষ্ঠানটির কাছে টাকা পাবেন বলে দাবি করে আমার জমিতে বালু ভরাট করছেন। ফারুক বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করেন।
এসএম ফারুকের স্ত্রী রেহেনা খানম জানান- যুবক হাউজিংয়ে আমার চাকরির সুবাদে আমার স্বামী জমিটি ক্রয় করেছিলেন। আমরা টাকা পরিশোধ করেছিলাম, কিছু টাকা বাকি থাকায় ঐসময়ে শুধু দলিল পাইনি। এর মধ্যে প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। এখন মামুন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে জামায়াত নেতা পরিচয় দিয়ে বলে যুবক হাউজিং-এর কাছে তার টাকা পাওনা আছে। এজন্য সে জমি নিজের দখলে নিতে আমাদের জমিতে অবৈধভাবে বালু ভরাট করছে। আমরা আমাদের জমির দখল ফিরিয়ে চাই।
পার্শ্ববর্তী আরেক প্লটের মালিক মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন- আমি হাউজিং থেকে ৫ শতাংশ জমি কিনেছি এবং আমার নামে দলিলও আছে। কিন্তু সিদ্দিকুর নামের একজন ও তাঁর স্ত্রী নিজেদের নামে সাইনবোর্ড টানিয়েছেন। প্রশ্ন করলে কোনো জবাব দিতে পারেননি। এখন আমি আমার জমিতে নিজ নামে সাইনবোর্ড টানাব।
তৃতীয় আরেক ক্রেতা হাসান জানান- অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজেকে জামায়াত নেতা পরিচয় দিয়ে আমাকে বলেন তিনি যুবক হাউজিংয়ের কাছে টাকা পাবেন। সে কারণে তাকে জমি বুঝিয়ে দিতে হবে। পরে দেখি, রাতের আঁধারে সে পার্শ্ববর্তী বায়না ও দলিল করা জমিতে বালু ভরাট করে সাইনবোর্ড টানাচ্ছে।
বিরোধপুর্ণ সম্পত্তি হলো- মৌজা: ইছাকাঠী, জেএল নং: ১৩, এসএ দাগ নং: ১০১৪,বিএস দাগ নং: ৩০৩৯, জমির পরিমাণ: ৫ শতাংশ।
স্থানীয়রা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে দলিল প্রদান না হওয়ায় অদৃষ্টে থাকা এ জমিগুলোকে ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দখলের চেষ্টা চালাতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান- আমার বিরুদ্ধে উপস্থাপিত তথ্য ভুল ও বিভ্রান্তিকর। মুলত ঐ হাউজিং ও এস্টেটের এর আমিও একজন সদস্য ছিলাম৷ নিয়মানুযায়ী ঐস্থানে আমি জমি ক্রয়ের জন্য বায়না চুক্তি করেছিলাম। আমি আমার জমিতে বালু ভরাট করেছি। আমি অন্যের জমি দখল দেইনি।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ জানান, অভিযোগ দায়ের হলে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।