নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান বলেছেন বিদেশি নাগরিক দিয়ে কারাগারে বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে ‘স্লো পয়জনিং’-এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
এম নাসের রহমান দাবি করেন, ২০২১ সালের নভবম্বর মাসে তিনি প্রথমবারের মতো এই বিষক্রিয়ার তথ্য ও প্রমাণ বিএনপির মহাসচিবকে অবহিত করেন। তিনি জানান, সেই সময় নিজ দপ্তরে মহাসচিবকে দাওয়াত করে এনে প্রামাণিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে বিএনপির মহাসচিব বিষয়টি প্রকাশ করেন।
এম নাসের রহমান আরও বলেন ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেগম খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় ১৩ মাস অবস্থান করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ‘স্লো পয়জনিং’-এর ঘটনা ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত ওই সময়েই বিষপ্রয়োগ চলছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় জড়িত একজন বিদেশি নাগরিককে কারারক্ষীর ছদ্মবেশে কারাগারে প্রবেশ করানো হয়েছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কয়েকজনের একটি চক্র এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। ওই বিদেশি নাগরিক সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ধরা পড়ে এবং তার কাছ থেকে বিষযুক্ত একটি পাউচ উদ্ধার করা হয়।
এম নাসের রহমান দাবি করেন, ঘটনার পরদিনই বেগম খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি প্রায় এক বছর চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, ওই বিষক্রিয়ার ফলে পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতাসহ একাধিক গুরুতর রোগের সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।