নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল-৩ আসন : হত্যা-প্রতারণা মামলায় জর্জরিত জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থী, টিপু ও তাপস।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হলেও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তালিকা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিতর্ক ও নেতিবাচক আলোচনা। একই আসনে দলটির দুই শীর্ষ নেতার মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনাস্থা বাড়ছে।
বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির বৈধ প্রার্থীদের একজন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস এবং অপরজন প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। একই দল থেকে দুইজন প্রার্থী থাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস বিএসসি পাস এবং গোলাম কিবরিয়া টিপু স্নাতক পাস। উভয়ের পেশা ব্যবসা হলেও মামলার তথ্য প্রকাশের পর প্রার্থিতার নৈতিকতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইকবাল হোসেন তাপসের বিরুদ্ধে রয়েছে দুইটি প্রতারণা মামলা। অপরদিকে গোলাম কিবরিয়া টিপুর বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা মামলাসহ মোট ১১টি মামলা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো-গোলাম কিবরিয়া টিপু বর্তমানে একটি রাজনৈতিক মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন। কারাবন্দি অবস্থায় তার মনোনয়নপত্র বৈধ থাকায় সাধারণ ভোটারদের প্রশ্ন, আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে থাকেন?
হলফনামা অনুযায়ী সম্পদের দিক থেকেও রয়েছে বিস্ময়কর চিত্র। গোলাম কিবরিয়া টিপুর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯৭ টাকা, তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৫৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৮ টাকা। কৃষি জমি, অ্যাপার্টমেন্ট ও ব্যাংকে জমা অর্থসহ তার মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৫৭ কোটি ৭২ লাখ ৭০৩ টাকা। এছাড়া তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬ কোটি ৯২ লাখ ৫ হাজার ৮৮৪ টাকা মূল্যের সম্পদ। স্বর্ণের হিসেবে তার কাছে রয়েছে ১৫০ ভরি এবং তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে আরও ৫০ ভরি স্বর্ণ।
অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপসের নগদ অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৫৬ টাকা এবং তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৫ টাকা। কৃষি জমি, অ্যাপার্টমেন্ট ও ব্যাংকে জমাসহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৪৭ হাজার ১২৫ টাকা, এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৬৬৮ টাকা মূল্যের সম্পদ। স্বর্ণের হিসেবে তার কাছে রয়েছে ৬০ ভরি এবং তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে আরও ২০ ভরি স্বর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে হত্যা মামলার আসামি ও কারাবন্দি প্রার্থী, অন্যদিকে প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থী-এমন বিতর্কিত মুখ নিয়ে নির্বাচনে নামা জাতীয় পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক নেতিবাচকতা তৈরি করছে। একই সঙ্গে একই আসনে দুই প্রার্থী রেখে দলটি কার্যত নিজেরাই নিজেদের ভোট ক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়েছে।
উল্লেখ্য, বরিশাল-৩ আসনে এবারে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে থাকা মামলা, জেলহাজত ও বিপুল সম্পদের তথ্য এই আসনের নির্বাচনী পরিবেশকে শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
ভোটারদের প্রশ্ন এখন স্পষ্ট- মামলা, কারাবাস ও বিতর্কিত সম্পদের ছায়া পেরিয়ে জাতীয় পার্টি কি বরিশাল-৩ এ ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে?