ঢাকাসোমবার , ২২ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অপেক্ষার প্রহর গুনছে বরিশাল, কবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল?

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুন ২২, ২০২৬ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৮৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :: অপেক্ষার প্রহর গুনছে বরিশাল, কবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল?

বরিশাল বিভাগীয় সদরে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র ২শ শয্যার শিশু হাসপাতালটির নির্মান কাজ চলতি অর্থবছরে শেষ করার প্রাণন্তকর চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও এখনো জনবল মঞ্জুরী মেলেনি। পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়ক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও তা স্থাপনে অরো কত বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে, তাও বলতে পারছেন না কেউ। ফলে আগামী অর্থ বছরেও দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র এ  শিশু হাসপাতালটি থেকে চিকিৎসা সহায়তা মিলবে কিনা তা সবার কাছেই অজ্ঞাত। বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ ১৯ কোটি ৪৮ লাখ ৩৩ হাজার ৫১ টাকা ব্যয়ে নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ১০ তলা ভীতের ওপর শিশু হাসপাতালটির চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। নির্মান প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ৩০ মাসের মধ্যে মূল হাসপাতাল ভবন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা এবং বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন সহ পুরো অবকাঠামো সমুহ নির্মান শেষ করার কথা। কিন্তু নির্মান প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় ১০ বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির সাব-স্টেশন সহ বৈদ্যুতিক কাজের জন্য দ্বিতীয়  দফায় ঠিকাদার নিয়োগ হতে চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর মতে, জুলাই মাসের মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে চাচ্ছেন তারা। তবে নির্মান প্রতিষ্ঠান কে.এস.বি.এল-এস.আর.আর জেভির পক্ষ থেকে হাসপাতালটির জমি নিয়ে জটিলতা সহ নিচু জলাশয় হওয়ায় তা ভরাট করে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে’ বলে জানান হয়েছে। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতে, এসব অভিযোগে আড়াই বছরের কাজ ১০ বছরেও শেষ না হবার বিষয়টি গ্রহনযোগ্য নয়। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে নির্মান কাজ বন্ধ থাকায় এখন হাসপাতালটির মূল ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। ফলে নতুন করে জলছাদের কাজ করতে হচ্ছে।
শুধুমাত্র নির্মান প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও উদাসীনতায় বছরের পর বছর ধরে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র শিশু হাসপাতালটির নির্মান কাজ শেষ না হবার বিষয়টি গ্রহনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। আইনে এসব অবহেলার সুযোগ না থাকলেও নির্মান প্রতিষ্ঠানের বিলম্বকে কেন মেনে নেয়া হয়েছে’ সে প্রসঙ্গে কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি। ইতোমধ্যে কয়েকবার সাবেক ও বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সহ  অধিদপ্তরের একাধিক মহাপরিচালক নির্মানাধীন এ হাসপাতাল ভবন পরিদর্শনও করে গেছেন।

সবশেষ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা যেভাবেই হোক আগামী ১ আগষ্টের মধ্যে হাসপাতালটির অন্তত বহির্বিভাগ চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্ত সে লক্ষে চিকিৎসক সহ প্রয়োজনীয় জনবল মঞ্জুরীর বিষয়টির কোন সুরাহা হয়নি এখনো।
এব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিশু হাসপাতালটি চালু করতে। তবে জনবল মঞ্জুরী না থাকা সহ আসাবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবের মধ্যে কিভভাবে হাসপাতালটি চালু হবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সবকিছু নিয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর কাজ করছে। সেখান থেকে যে ধরনের নির্দেশনা আসবে সেভাবেই কাজ হবে।

তবে বিগত প্রায় দশবছর ধরে চলমান ১০ তলার ভীতের ওপর ৪তলা হাসপাতাল ভবনের নির্মান কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনটির নির্মান কাজও সম্প্রতি শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে হাসপাতাল ভবন ও সাব-স্টেশনের পরিপূর্ণ নির্মান কাজ সম্পন্ন করার সম্ভাবনা নেই।

নির্মানাধীন বরিশাল শিশু হাসপাতালটির প্রথম তলায় জরুরি বিভাগ ছাড়াও রেডিওলজি, ডায়াগনস্টিক ও ডিসপেন্সারি থাকার কথা। আউটডোর থাকবে দ্বিতীয় তলায়। সাথে রেডিওথেরাপি, ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি বিভাগ, তৃতীয় তলায় জেনারেল বেড, নিউনেটাল আইসিউ, অপারেশন ব্লক, কনফারেন্স রুম, পোষ্ট অপারেটিভ ব্লক এবং চতুর্থ তলায় প্রশাসনিক ব্লক, সাধারণ শিশু ওয়ার্ড, নিউনেটাল কেয়ার ইউনিট, ক্যান্টিন, অপারেশন থিয়েটার ও কনফারেন্স রুম স্থাপনের কথা রয়েছে।

বর্তমানে ১ হাজার  শয্যার বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দকৃত ৭০ শয্যার ওপর এ অঞ্চলের শিশু চিকিৎসা সেবা নির্ভরশীল। ফলে প্রতিদিনই ধারণক্ষমতার পাঁচ থেকে ১০গুন পর্যন্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে পুরো চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমই ভেঙে পড়ছে। শীত মৌসুমে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডের মেঝেতেও পা রাখা দায় হয়ে ওঠে। এরসাথে বিগত কয়েকমাস ধরে হাম’র প্রকোপে এ হাসপাতালটির পুরো শিশু বিভাগই  অসুস্থ। এছাড়া বছরজুড়ে শিশুদের ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ার রোগীদের সামাল দিতে এ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অবস্থা সব বর্ণনার বাইরে চলে যাচ্ছে।