
উজিরপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন
মোঃ কাওছার হোসেন, উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুরে পৈতৃক জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচার ও রাজনৈতিক অপপ্রচারের প্রতিবাদে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উজিরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নুরুজ্জামান খান। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিরোধপূর্ণ স্থানে অবস্থিত তার নিজ বসতবাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে নুরুজ্জামান খান জানান, উজিরপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত তাদের নিজ বসতবাড়ি ও পৈতৃক রেকর্ডীয় প্রায় ৮১ শতাংশ জমি নিয়ে উজিরপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বরুন মিত্রের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তবে উক্ত জমির পাশে থাকা একটি প্রাচীন মন্দিরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। নুরুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেন, মন্দিরের সম্পূর্ণ জমিটি আলাদা এবং তা সরকারি ডিসিআরভুক্ত বিপি সম্পত্তি, যার সাথে তাদের পৈতৃক রেকর্ডীয় জমির কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বরুন মিত্র ও তার অনুসারীরা তাকে সামাজিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে বানোয়াট অভিযোগ পাঠাচ্ছেন। একই সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে ‘মন্দিরের জমি দখল’ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
নুরুজ্জামান উল্লেখ করেন, এসব মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে র্যাব, সেনাবাহিনী, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ডিজিএফআই, এনএসআইসহ একাধিক গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক সংস্থা সরেজমিনে তদন্ত চালিয়েছে। প্রতিটি তদন্তেই উঠে এসেছে যে, নুরুজ্জামান ও তার পরিবার বৈধ কাগজপত্র অনুযায়ী তাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপরই বসবাস করছেন এবং মন্দিরের জমিতে তাদের কোনো অবৈধ দখল নেই।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুজ্জামান খান বলেন, “আমি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় এবং সাবেক স্থানীয় এমপি শাহ আলম ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। সম্প্রতি আমার মা মারা যাওয়ার পর তার কবরের সুরক্ষা এবং বসতবাড়ির পুরাতন গেট সংস্কার করে ‘খান বাড়ি’ নামফলক লাগানোর বিষয়টিকেও বরুন মিত্র ‘মন্দিরের গেট দখল’ হিসেবে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বরুন মিত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও জমি দখলের পাঁয়তারা হিসেবে এই অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিরসনের জন্য তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য থাকে যে, সংবাদ সম্মেলন শেষে উক্ত আলোচিত মন্দিরের পুরোহিত আসলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নুরুজ্জামানদের সাথে মন্দিরের কোনো বিরোধ বা ঝামেলা নেই। তারা তাদের নিজের বাড়িতেই আছেন।

