ঢাকাশুক্রবার , ১৭ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এএসআই সাইদুলের সুনাম ক্ষুণ্নে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বরিশালবাসী

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ১৭, ২০২৬ ৮:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১১০

 

স্টাফ রিপোর্টার :: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইদুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন তার সহকর্মী, পরিচিতজন এবং স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি। একই সঙ্গে তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এএসআই সাইদুল ইসলাম দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

বিশেষ করে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার কার্যক্রমে তার সাফল্য ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের দাবি, অসংখ্য ভুক্তভোগী তার প্রচেষ্টায় হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন ফিরে পেয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে এই সাফল্যই একটি অসাধু ও স্বার্থান্বেষী মহলের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণে অনাগ্রহের কারণেই একটি কুচক্রী মহল তাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে তার বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের বক্তব্য, এএসআই সাইদুল কখনো কোনো হোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো উৎস থেকে অবৈধভাবে চাঁদা গ্রহণ করেন না। তার বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলোর পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ পায়নি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেনি।

পরিচিতজনদের মতে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও এটি অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচার করা আইনগত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে এবং নিরপরাধ ব্যক্তির সম্মানহানির কারণ হতে পারে।

তারা আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্রে প্রত্যেক ব্যক্তি ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখেন। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে। একই সঙ্গে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার চালিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিচিতজনদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এএসআই সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফলও এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।