
নিজস্ব প্রতিবেদক :: পছন্দের ক্লিনিকে পরীক্ষা না করায় রোগীর সঙ্গে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকের দুর্ব্যবহার।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পছন্দের ক্লিনিকে পরীক্ষা না করানোয় এক রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অন্য ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর পর সেই রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এক সাংবাদিকের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন ওই চিকিৎসক বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা সরুজ মল্লিকের স্ত্রী নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি মাথাব্যথায় ভুগছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেডিসিন বিভাগের নিচতলায় মেডিকেল অফিসার ডা. রমজান আলীকে দেখানোর জন্য সিরিয়ালে দাঁড়ান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে দেখেন এবং কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।
নাজমা বেগমের অভিযোগ, এ সময় চিকিৎসক এক নারীকে দেখিয়ে দিয়ে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে বলেন। তবে ওই ক্লিনিকে না গিয়ে তিনি সায়েন্স ল্যাব নামের অন্য একটি ক্লিনিক থেকে তুলনামূলক কম খরচে পরীক্ষাগুলো করান।
পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে কেন তাঁর পরামর্শ দেওয়া ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করানো হয়নি, তা জানতে চান ডা. রমজান আলী। এ সময় তাঁকে বকাঝকা করা হয় এবং রিপোর্ট না দেখেই ব্যবস্থাপত্র লিখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন নাজমা বেগম। চিকিৎসকের এমন আচরণের প্রতিবাদ করলে তাঁর সহযোগীরা তাঁকে জোর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান এ প্রতিবেদক। এ সময় হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি ছাড়া তাঁর কক্ষে প্রবেশের কারণ জানতে চান চিকিৎসক রমজান আলী। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং হট্টগোল সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগীও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, রোগীদের নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে পাঠানো হয় এবং সেখানে পরীক্ষা না করালে দুর্ব্যবহার করা হয়।
একপর্যায়ে চিকিৎসক রমজান আলী নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলে জানা গেছে। সংবাদপড়ুন
নাজমা বেগম আরও বলেন, এর আগেও তিনি ওই চিকিৎসকের কাছে এসেছিলেন। তখনো তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন নারী ওই চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অবস্থান করেন। রোগী দেখার পর তাঁদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে পাঠানো হয়। পছন্দের ক্লিনিকে পরীক্ষা না করালে রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়।
হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত একাধিক সংবাদকর্মী জানান, শেবাচিম হাসপাতালে রোগীদের দালালদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেন। তবে সব রোগী পরিচালকের কাছে অভিযোগ করেন না। এ সুযোগে দালালদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। দালালদের বিরুদ্ধে কথা বললে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দালালদের মাধ্যমে রোগীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংবাদপড়ুন
এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর আমার দেশকে বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিচালক আরও বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালের পরিবেশ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন এবং এ ক্ষেত্রে অনেকটা সফলও হয়েছেন। হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

