ঢাকাবুধবার , ১৫ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাথরঘাটায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড : অর্ধশত দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা প্রশাসন

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ১৫, ২০২৬ ১:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৭১

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া বাজারে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধশত দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকার মালামাল, নগদ অর্থ ও দোকানের আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটের দিকে বাজারের রবিন নামের এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের নীরবতায় হঠাৎ একটি দোকান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার, তেলসহ দাহ্য পদার্থের দোকান থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পরে বামনা ও মঠবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট যোগ দিলে তিনটি ইউনিটের সমন্বিত চেষ্টায় দীর্ঘ সময় পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “ফায়ার সার্ভিস আরও দেরিতে এলে হয়তো পুরো বাজারই পুড়ে যেত। স্থানীয়রাও অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু আগুনের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি।”

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সারা জীবনের উপার্জন এই দোকানের ওপর নির্ভরশীল। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম। সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করছি।”

অগ্নিকাণ্ডের পর পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম, উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সকাল হতে না হতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরগুনার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও ঘর মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩০ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ ও এক বস্তা করে শুকনো খাবার প্রদান করা হয়। এছাড়া ২৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মালিককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসন কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত পুনর্বাসন, সহজ শর্তে ঋণ এবং ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।