
নিউজ ডেস্ক :: বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণিঝড়, বরিশাল উপকূলে বাড়ছে সতর্কতা
এক ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে আবারও তৈরি হয়েছে নতুন ঘূর্ণিঝড়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সাগরে সৃষ্টি হয়েছে ‘অর্ণব’ ও ‘মুরাসু’। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। এবার একই সাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ শক্তি সঞ্চয় করে ভারতের উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পায়রা সমুদ্রবন্দর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা ও বরিশালের নদ-নদীসংলগ্ন এলাকার জেলেদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নেয়। পরবর্তী সময়ে এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়া, বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওই সময় পায়রাসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করা হয়।
অর্ণবের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। রোববার (১ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ২৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। একই সময়ে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এর দূরত্ব ছিল ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পায়রাসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা না থাকলেও সাগরের উত্তাল পরিস্থিতি, দমকা হাওয়া এবং বৃষ্টির প্রভাব উপকূলীয় জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর, কলাপাড়া, কুয়াকাটা, বরগুনার পাথরঘাটা, ভোলার চরাঞ্চল এবং মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতীরবর্তী এলাকার মাছ ধরার নৌযানগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় মানুষের জন্য আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলাই জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।;

