ঢাকাMonday , 5 October 2026

বরগুনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনে অচলাবস্থা, সেবা পেতে পটুয়াখালীর ওপর নির্ভর ২ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহক

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৮

নিউজ ডেস্ক :: বরগুনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনে অচলাবস্থা, সেবা পেতে পটুয়াখালীর ওপর নির্ভর ২ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহক

বরগুনায় পূর্ণাঙ্গ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনের উদ্যোগে ফের দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। গত জুন মাসে নতুন ‘বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’ গঠনের প্রক্রিয়া দৃশ্যমানভাবে এগোলেও অজ্ঞাত কারণে বর্তমানে তা অনেকটাই থমকে আছে। অথচ প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী নতুন এই সমিতির আওতায় আসার কথা জেলার ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৫ গ্রাহক। বর্তমানে বরগুনার বিদ্যুৎ বিতরণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিভিন্ন সেবা পেতে গ্রাহকদের ভোগান্তির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

 

গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি স্থানান্তর, ত্রুটি মেরামত, নতুন সংযোগ, লাইন সম্প্রসারণ কিংবা দুর্যোগের পর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার মতো স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কাজেও পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ হয় এবং গ্রাহকসেবায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

বরগুনা উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ জেলা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ফলে দুর্যোগের পর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপনে স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী প্রশাসনিক ও কারিগরি সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বরগুনার জন্য পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠন হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দূরত্ব কমবে এবং গ্রাহকসেবায় গতি আসবে।

সম্প্রতি পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত বিভাজনের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। নথির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রয়েছে ৪ হাজার ৯৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা এবং সংযোগপ্রাপ্ত গ্রাহক ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৯১ জন। বিভাজনের পর পটুয়াখালী অংশের আয়তন দাঁড়াবে ৩ হাজার ৯৯ বর্গকিলোমিটার এবং গ্রাহক থাকবে ৫ লাখ ১০ হাজার ২৮৬ জন।

 

অন্যদিকে প্রস্তাবিত বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় থাকবে ১ হাজার ৮৪৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা। গ্রাহক সংখ্যা হবে ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৫ জন। অর্থাৎ জেলার বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে একটি পৃথক প্রশাসনিক ও কারিগরি কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নথিতে স্থান পেয়েছে।

 

প্রস্তাবিত সমিতির সেবাব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ৩টি জোনাল অফিস, ৩টি সাব-জোনাল অফিস, ১২টি অভিযোগ কেন্দ্র ও ৪টি উপকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্যও পৃথক জনবল কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ৯ জন কর্মকর্তা ও ২১৬ জন নিয়মিত কর্মচারী থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বিভাজনের পর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা ও সিস্টেম লস নিয়েও প্রস্তাবে হিসাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিস্টেম লসের হার ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিভাজনের পর পটুয়াখালী অংশে তা ১০ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে আসার প্রাক্কলন করা হয়েছে। অপরদিকে প্রস্তাবিত বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিস্টেম লস ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। ফলে নতুন সমিতি গঠনের পাশাপাশি সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণ ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

 

প্রতিবেদনে আর্থিক বিষয়ও উঠে এসেছে। এতে বর্তমানে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বার্ষিক নিট লোকসান ৭২ কোটি ২ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ১১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। নতুন সদর দপ্তর ভবন, আবাসিক ভবন ও রেস্ট হাউস নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন একটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, জনবল, অবকাঠামো, প্রশাসনিক কাঠামো ও পরিচালন ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা স্বাভাবিক। তবে এসব বিষয় পর্যালোচনার নামে প্রক্রিয়াটি অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখা হলে বরগুনার গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়নের দিকে এগোনো প্রয়োজন।

 

বরগুনা জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, নতুন সমিতি গঠিত হলে বরগুনা অঞ্চলের গ্রাহকসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রশাসনিক দূরত্ব কমার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়বে। বিদ্যুৎ সরবরাহে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নতুন সংযোগ প্রদানের প্রক্রিয়াও সহজ হবে। আলাদা সমিতি বরগুনার বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে বরগুনার সচেতন মহলের প্রশ্ন, ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৫ গ্রাহককে নিয়ে পৃথক সমিতি গঠনের প্রস্তাব যখন নথিতে রয়েছে, তখন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা কোথায়? জুন মাসে যে প্রক্রিয়ায় গতি এসেছিল, সেটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন স্থবির হয়ে পড়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

 

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, একটি বিশেষ মহল বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। তবে এ দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে বিভাজন প্রক্রিয়াটি বর্তমানে কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এর সম্ভাব্য সময়সীমা কী তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো জরুরি।

 

বরগুনার গ্রাহকদের মতে, বিদ্যুৎ সেবা মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, নতুন সংযোগ, লাইন সম্প্রসারণ কিংবা দুর্যোগের পর সরবরাহ পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও তাৎক্ষণিক কারিগরি ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো থাকা জরুরি।

 

তাদের দাবি, বরগুনার জন্য প্রস্তাবিত পৃথক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রক্রিয়া আর দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন সমিতির