ঢাকাশুক্রবার , ৫ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল নগরীতে উচ্ছেদকৃত ৮২ জন হকার পাচ্ছেন বিসিসির স্থায়ী দোকান

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুন ৫, ২০২৬ ২:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৭০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীতে উচ্ছেদকৃত ৮২ জন হকার পাচ্ছেন বিসিসির স্থায়ী দোকান।

 

নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি, যানজট নিরসন এবং জনসাধারণের চলাচল নির্ভীঘ্ন  করতে বিভিন্ন সময় ভাসমান দোকান ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও পুনর্বাসনের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত ছিল। তবে সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে উচ্ছেদকৃত হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)র প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তিনি বরিশাল জেলা পরিষদ এর পুকুরপাড় এলাকার ভাসমান দোকানপাট উচ্ছেদের পর সেখানে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের জন্য অস্থায়ী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে হকারদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। নগর ভবনের ঠিক পেছনে বিসিসির নিজস্ব জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে এই ৮২টি অস্থায়ী দোকান। প্রতিটি দোকানের আকার ৫ ফুট বাই ৩ ফুট। এসব দোকানে পুনর্বাসিত হকাররা নিয়মিতভাবে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার নগর ভবনের পেছনে নির্মাণাধীন দোকানগুলোর কাজ পরিদর্শন করেন বিসিসি প্রশাসক আইনজীবী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন।

 

পরিদর্শনকালে প্রশাসক শিরিন বলেন, “নগরীর সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। জেলা পরিষদ পুকুর পাড়ের উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য অস্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইভাবে বেলসপার্ক, ত্রিশ গোডাউন, চৌমাথা লেক ও অন্যান্য এলাকার হকারদের পুনর্বাসনের জন্যও আমরা জায়গা খুঁজছি। পর্যায়ক্রমে তাদের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রকৃত ভাসমান হকাররা যেন এসব দোকান পায় তাও নিশ্চিত করা হবে বলে জানান শিরিন।

সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলা পরিষদ পুকুর পাড় সংলগ্ন এলাকার অধিকাংশ ভাসমান বিক্রেতা। তাদের মতে, উচ্ছেদের পর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও এখন তারা নতুন করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন জীবিকা রক্ষা হবে, অন্যদিকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোও দখলমুক্ত থাকবে বলে জানান তারা।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, উন্নত নগর ব্যবস্থাপনায় উচ্ছেদ এবং পুনর্বাসন- দুই বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র উচ্ছেদ করলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, আবার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকলে নগর শৃঙ্খলা ও মানবিকতার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি হয়।
নগর চিন্তাবিদ কাজী মিজানুর রহমান বলেন, “ভাসমান হকারদের জন্য বিসিসি প্রশাসকের অস্থায়ী দোকান তৈরি করে দেওয়া অবশ্যই প্রশংসনীয় কাজ। তবে এটি যেন রাজনৈতিক কারণে বিতর্কিত না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল স্থানান্তর এখন সময়ের দাবি। আমি প্রশাসক মহোদয়কে অন্তত একবার সিলেটের আধুনিক বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখে আসার অনুরোধ করবো। সেখানে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে এবং জায়গার পরিমাণও খুব বেশি নয়। আমাদের নথুল্লাবাদ এলাকায় ১২ একরেরও বেশি জায়গা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে বরিশালেও একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনাল নির্মাণ সম্ভব।”

 

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন নগরীর পরিচ্ছন্নতা, অবৈধ দখলমুক্তকরণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং নগর সৌন্দর্য বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় হকার পুনর্বাসনের এই উদ্যোগকে অনেকেই একটি মানবিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, জেলা পরিষদ পুকুরপাড়ের মতো বেলসপার্ক, ত্রিশ গোডাউন, চৌমাথা লেকসহ নগরীর অন্যান্য এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে নগরীর সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি হাজারো নি¤œ আয়ের মানুষের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে।

একই সঙ্গে নগর উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আরও কয়েকটি দাবিও সামনে এসেছে। এরমধ্যে সিলেট বাস টার্মিনালের আদলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণ অন্যতম। বর্তমানে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা বাস চলাচলে যাত্রীদের নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এছাড়া নগরীর চৌমাথায় শৃঙ্খলিত ও নিরাপদ পারাপারের জন্য আধুনিক জেব্রা ক্রসিং, ট্রাফিক সিগন্যাল, পথচারী পারাপার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপনের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

সচেতন নাগরিকদের মতে, হকার পুনর্বাসনের মতো মানবিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগের পাশাপাশি আধুনিক বাস টার্মিনাল, নিরাপদ পথচারী পারাপার ব্যবস্থা এবং সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বরিশাল দেশের অন্যতম বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হতে পারে। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগ ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নগর উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।