ঢাকারবিবার , ১২ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিবিরের হেল্পডেস্ক ও ব্যানার, ক্লাস বঞ্চনার অভিযোগ

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ১২, ২০২৬ ৩:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬৮

ধীমান ঢালী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তিচ্ছু নবীন শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি একাডেমিক শ্রেণিকক্ষে ইসলামী ছাত্র শিবিরের হেল্পডেস্ক স্থাপন ও ব্যানার টানানোর ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে নির্ধারিত ক্লাস করতে না পেরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফিরে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৭৫০৮ নম্বর কক্ষে বিভিন্ন বিভাগের নিয়মিত পাঠদান অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি কার্যক্রম চলাকালে ওই কক্ষটি ব্যবহার করে হেল্পডেস্ক বসায় ছাত্র শিবির। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্ষের ভেতরে সংগঠনটির একটি ব্যানারও ঝুলানো ছিল।

 

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ে তারা ক্লাস করতে গিয়ে দেখেন কক্ষের ভেতরের বেঞ্চগুলো এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে এবং রাজনৈতিক ব্যানার টানানো। শ্রেণিকক্ষটি ক্লাস নেওয়ার উপযোগী না থাকায় শিক্ষকরা পাঠদান করতে পারেননি এবং শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। একাডেমিক কক্ষে এই ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাকে নৈতিকতা পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন তারা।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারের বিষয়ে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। অনুমতি ছাড়া একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন,

 “বিষয়টি সম্পর্কে প্রক্টর অফিস অবগত নয়। এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং এ সংক্রান্ত কোনো আবেদনও আমরা পাইনি।”

 

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফরম পূরণসহ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করার উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। ব্যানার টানানোর বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ব্যানারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সাময়িকভাবে সেখানে রাখা হয়েছিল।

 

ভর্তিচ্ছুদের সহায়তার বিষয়টিকে কেউ কেউ ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট করার এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।