ঢাকাFriday , 4 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল মেডিকেলের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে সরেজমিনে পরিচালক

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১১

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল মেডিকেলের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে সরেজমিনে পরিচালক

একসময় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ত চা, পান, বিড়ি-সিগারেটসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান। হাসপাতাল চত্বরের সার্বিক পরিবেশ দেখে অনেকের কাছেই মনে হতো, এটি যেন হাসপাতাল নয়—একটি বাজার। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও রোগীবান্ধব করতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন অংশের পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর।

পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, আশপাশের এলাকা, চলাচলের পথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময় হাসপাতাল চত্বরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রোগী ও স্বজনদের চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক পরিবেশ আরও উন্নত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রোগীদের সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন পরিচালক। হাসপাতালের অভ্যন্তরে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় দোকানপাট ও অব্যবস্থাপনা কমানো, অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি সচল করা এবং বহির্বিভাগে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ফোয়ারা স্থাপন, কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো এবং অন্যান্য সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কার্যক্রমও ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।

পরিদর্শনকালে পরিচালক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রোগীরা যাতে স্বস্তিদায়ক পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন, সেটিই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেওয়া এসব উদ্যোগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও তদারকি করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীবান্ধব পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবার পরিধি ও মান আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।