ঢাকাশনিবার , ২৮ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে জেলা পরিষদের ৪০বছরের পুরাতন ঝুকিপূর্ন ভবনে তৃতীয় তলা নির্মান

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
মার্চ ২৮, ২০২৬ ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৬১

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের প্রধান গেটের বিপরীতে জেলা পরিষদের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন নগরীর বান্দ রোড ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা। চলতি মাসের ১২ মার্চ ডাকযোগে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) ও সাংবাদিক সংগঠন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ওই সংগঠনের প্রায় একডজন সদস্য। যার অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে- বিসিসি’র প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সাংবাদিক সংগঠন ‘বরিশাল প্রেস ক্লাব’ ও ‘বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি’ এর সভাপতি/সম্পাদক বরাবর। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবনের ২য় ও ৩য় তলায় ভবন নির্মাণাধীন কার্যক্রম পরিচালনা করছে আসিফ ও তমাল।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে- আবেদনকারীরা হাসপাতালের সামনে জেলা পরিষদের ভবনে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত হওয়া এ ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে ভূমিকম্পের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিতে পুরো ভবনটি। তারমধ্যে হঠাৎ ‘পপুলার ডায়াগনস্টিক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভবনের তৃতীয় তলায় নতুন করে ভবন নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। যার ফলে যে কোনো মুহূর্তে ভবন ধসে মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় ভবনটির তিনতলা পর্যন্ত ভীত ঠিক আছে কিনা তা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানান।

‘পপুলার ডায়াগনস্টিক’ সেন্টারের ম্যানেজার মোশারফ হোসেন বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিষ্ঠান ২য় তলায়। আর ৩য় তলায় নতুনভাবে কারা কাজ করছেন তা তিনি জানেন না।
নির্মাণাধীন কার্যক্রম পরিচালনা করা আসিফ বলেন, জেলা পরিষদ থেকে নেয়ার সময় চুক্তিপত্রে ৩য় তলাও নেয়া হয়েছে যার তথ্য প্রমাণ রয়েছে। ৩য় তলায় নতুন কার্যক্রম সম্পর্কে বিসিসি অবগত রয়েছে কিনা জানতে চাইলে আসিফ বলেন, জেলা পরিষদের কার্যক্রমে বিসিসির কোনো হস্তক্ষেপ করে না। এখানে বিসিসির কোনো বিষয় নেই। তমাল বলেন, হাসপাতালের বিপরীতে জেলা পরিষদের মার্কেটটি সিংহভাগ স্থানের ৩য় তলার কার্যক্রম আগে থেকেই সম্পন্ন। তারা কীভাবে কোন নিয়মে সম্পন্ন করলো। তখন কোনো সমালোচনা হয়নি।

জানতে চাইলে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রেজাউল বারী বলেন, সিটির মধ্যে জেলা পরিষদের ভবন নির্মাণ কার্যক্রমে বিসিসির নিয়মনীতি রয়েছে।
বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো : ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল বলেন, বিষয়টি পুরনো। জেলা পরিষদের সাথে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের চুক্তিপত্রে ৩য় তলা সহ নানা বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এটি আগের বিষয়। নিয়ম-অনিয়ম বা দুর্ঘটনার বিষয় আসলে ওই চুক্তিপত্রে যাদের স্বাক্ষর আছে, তাদের জবাব দিতে হবে। আর আমি দায়িত্ব নেয়ার পর কি করছি তা বলতে পারি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রকৌশলী বলেন, দুর্বল পিলার ও ভিমে নির্মাণ কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ। সঠিকভাবে প্রকৌশলগত নকশা অনুসরণ না করলে এবং পুরাতন ভবনের ছাদে নতুন করে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করলে উপরে মাত্রারিক্ত লোড হলে যে কোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।