ঢাকাFriday , 4 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে মিটার না দেখেই বিল, ভৌ তিক বিলে অতী ষ্ঠ গ্রাহক

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১০

নিউজ ডেস্ক :: বরিশালে মিটার না দেখেই বিল, ভৌতিক বিলে অতীষ্ঠ গ্রাহক

 

পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় পল্লী বিদ্যুতের বিল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। পরিশোধ করা এক মাসের বিল পরবর্তী মাসের বিলে পুনরায় যুক্ত হওয়া, প্রকৃত মিটার রিডিং না দেখে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি, নির্ধারিত সময়ে বিলের কাগজ না পাওয়া এবং ভুল বিল সংশোধনের জন্য অফিসে গিয়ে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘোরার অভিযোগ উঠেছে কুয়াকাটা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিলের এসব জটিলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ার পরিবর্তে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। ভুল বুঝতে না পেরে অনেকে অতিরিক্ত বিলও পরিশোধ করেছেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয় কিংবা বিল সংশোধনের জন্য একাধিকবার অফিসে যেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় গ্রাহকদের ভাষ্য, জুলাই মাসের বিল নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করার পরও আগস্ট মাসের বিলে অনেকের আগের মাসের পরিশোধিত বিল পুনরায় যুক্ত হয়েছে। এতে কোনো কোনো গ্রাহকের বিল স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হয়েছে। বিলের কাগজ হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নজরে এলে অফিসে যোগাযোগ করে তারা সমস্যার কথা জানতে পারেন।

মৎস্যবন্দর আলীপুরের ব্যবসায়ী মো. আবুল কালামের মিটার নম্বর ৫০০১৫৮০০৬। আগস্ট মাসে তাঁর বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২ হাজার ৭৮৬ টাকা। তাঁর দাবি, যাচাইয়ের পর প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ১ হাজার ৩৬১ টাকা।

একইভাবে গ্রাহক মিজানুর রহমানের মিটার নম্বর ০০২৫০৬৭৫। আগস্ট মাসে তাঁর বিল এসেছে ১ হাজার ৬৪০ টাকা। তবে সংশোধিত হিসাবে বিল হওয়ার কথা ১ হাজার ২০৬ টাকা বলে দাবি তাঁর

ছাড়া জুয়েল ফরাজী, রহিম ফরাজী, মজিদ ফরাজীসহ শত শত গ্রাহকের বিলেও অতিরিক্ত অর্থ যুক্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

মৎস্যবন্দর আলীপুরের মেসার্স সুফিয়া মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী হাজী মো. মহিবুল্লাহ জানান, তাঁর দোকান, বাসা ও অফিসসহ মোট পাঁচটি বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। আগস্ট মাসে প্রতিটি মিটারেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বিল আসে। চারটি মিটারের বিল পরিশোধের পর পঞ্চম মিটারের বিল দিতে গিয়ে অস্বাভাবিক অঙ্ক দেখতে পান তিনি।

মহিবুল্লাহ বলেন, বিলের কাগজ যাচাই করে দেখা যায়, জুলাই মাসের বিল আগেই পরিশোধ করা হলেও ওই বিলের অর্থ আগস্ট মাসের বিলের সঙ্গে আবারও যুক্ত করা হয়েছে। পরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে তাঁকে অফিসে এসে বিল সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে যাওয়ার পর বিল সংশোধন করে কমিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, যেসব মিটারে অতিরিক্ত বা দ্বিগুণ বিল ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে, সেই অর্থ সরাসরি ফেরত না দিয়ে পরবর্তী মাসের বিলের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “ভুল যদি অফিসের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলো কেন? টাকা ফেরত না দিয়ে পরবর্তী মাসে সমন্বয়ের কথা বলা হচ্ছে কেন? নিজের টাকা সমন্বয় করিয়ে নিতে একজন গ্রাহককে আবার অফিসে আসতে হবে—এটা কেমন গ্রাহকসেবা

পরিশোধ করা বিল পুনরায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি মিটার রিডিং নিয়েও গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, অনেক সময় মিটারে থাকা প্রকৃত রিডিং সংগ্রহ না করে অনুমাননির্ভর রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল তৈরি করা হয়। ফলে কোনো মাসে অস্বাভাবিক বেশি আবার কোনো মাসে তুলনামূলক কম বিল আসে।

পরবর্তীতে প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের হিসাবের পার্থক্য ধরা পড়লে বিষয়টি গ্রাহকদেরই অফিসে গিয়ে জানাতে হয়। গ্রাহকদের মতে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে মিটার রিডিং সংগ্রহ এবং যাচাই করা হলে এ ধরনের বিলিং জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

এদিকে আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের শেষ দিনে, অর্থাৎ ৩০ আগস্ট বিলের কাগজ হাতে পেয়েছেন। ফলে পরদিন বিল পরিশোধ করতে গিয়ে কাউকে কাউকে বিলম্ব মাশুল দিতে হয়েছে।

গ্রাহকদের প্রশ্ন, বিল যদি সময়সীমার শেষ দিনে হাতে পৌঁছে, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা বিল পরিশোধের সুযোগ পাবেন কীভাবে? বিল প্রস্তুত বা বিতরণে কোনো ধরনের বিলম্ব হলে তার দায়ভার গ্রাহকদের বহন করতে হবে কেন?

এ নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কয়েকজন গ্রাহকের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বিল সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে অফিসে গেলে গ্রাহকদের একাধিক টেবিলে ঘোরানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তা অন্য কর্মকর্তার কাছে পাঠান, আবার অন্য টেবিল থেকে আরেক টেবিলে যেতে বলা হয়। এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া যায় না।

গ্রাহকদের অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত অনেককে উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোস্তফা আমিনুর রাশেদের কাছেও যেতে হয়। তবে সেখানেও অভিযোগের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সমাধান না পাওয়ার দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গ্রাহকদের মতে, বিদ্যুৎ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সেবা। তাই বিল প্রস্তুত, মিটার রিডিং সংগ্রহ, বিল বিতরণ, ভুল বিল সংশোধন এবং নতুন সংযোগ দেওয়ার প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সচেতন নাগরিকদের মতে, কুয়াকাটা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে পৃথক ‘গ্রাহক অভিযোগ ও নিষ্পত্তি ডেস্ক’ চালু করা হলে ভোগান্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অভিযোগ গ্রহণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকলে গ্রাহকদের এক কর্মকর্তা থেকে অন্য কর্মকর্তার কাছে ছুটতে হবে না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কুয়াকাটা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোস্তফা আমিনুর রাশেদ বলেন, “সফটওয়্যারের সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ বিল বেশি হয়েছে। এটা ঠিক হয়ে যাবে।”

তি