
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে মৃত ব্যক্তিসহ আ’লীগের ২৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি।
বরিশালে মৃত আওয়ামী লীগ নেতাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ২৪৮ জন নামধারী নেতাকর্মীকে বিবাদী করে আদালতে নালিশি মামলা দয়ের করা হয়েছে। বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরিয়ত উল্লাহ নালিশি মামলায় আনা অভিযোগ মেট্রোপলিটন উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা পরিচয় দেওয়া মো. মারজুক আব্দুল্লাহ’র এই মামলার আবেদনের পর থেকে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আবেদনকৃত মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ১০ জুন, ১৬ জুন ও ২২ জুন মামলায় অভিযুক্ত প্রধান বিবাদী বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর, সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ- সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত ও রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের স্বত্তাধীকারী ডাঃ রাহাত আনোয়ারসহ বেশ কিছু নেতার আর্থিক সহায়তা ও পরামর্শে ১২০ থেকে ১৫০ জন কর্মী নগরীর গড়িয়ারপাড়, ভাঙ্গার পোল ও কাশিপুর মৃত্তিকা ভবনের সামনে বিস্ফোরক দ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে মিছিল করে। এমনকি টায়ারে অগ্নিসংযোগ ঘটিয়ে সড়ক আবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
বাদীসহ মামলার স্বাক্ষীরা মিছিলে ও সড়ক অবরোধে বাঁধা দিলে আসামীরা তাদের হত্যার হুমকি দেয়। এক পর্যায় তারা বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য দ্বারা বিকট শব্দ সৃষ্টি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তাই সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ২ জলাই অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডস্থ ক্লাব রোডের বাসিন্দা মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা পরিচয় দেওয়া মো. মারজুক আব্দুল্লাহ একটি নালিসি মামলা দায়ের করেন।
অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরিয়ত উল্লাহ নালিশি মামলায় আনা অভিযোগ মেট্রোপলিটন উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মামলাটি যতটানা আলোচনায় এসেছে তার চেয়ে সমালোচনা কুড়িয়েছে মামলায় ২০২২ সালে মারা যাওয়া এক আওয়ামীলীগ নেতার নাম থাকায়। মামলায় ২১২ নম্বর ঘরে খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা নামের ওই আসামী নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। মাামলায় উল্লেখ করা হয় এই আসামী ঘটনার দিনগুলোতে মিছিল ও সড়ক অবরোধে উপস্থিত ছিলেন। এমনকি আর্থিকভাবেও মিছিলকারীদের সহযোগীতা করেছেন।
মামলায় তার নাম অন্তুর্ভুক্তির কথা জানতে পেরে নেট দুনিয়ায় আলোচনার ঝর উঠে। আওয়ামীলীগের অনেকে দাবী করছেন তিনি ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারী মৃত্যু বরণ করেন। এমনকি ২৭ জানুয়ারী পারিবারিকভাবে তার কুলখানিও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাবেক সিটি মেয়র সদিক আব্দুল্লাহসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মামলায় ১৬৪ নম্বর আসামী হিসেবে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জামায়াত নেতা মনিরুজ্জামান তালুকদারের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে অবশ্য কলম দিয়ে তার নাম কেটে দিয়ে বাদী স্বাক্ষর করে দেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মারজুক আব্দুল্লাহকে মামলায় উল্লেখিত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানিয়েছেন, একটি নালিশি মামলা হয়েছে। উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশনকে) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।

