ঢাকাসোমবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে রাজনৈতিক অঙ্গনে সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলামের দলবদল নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি 

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে রাজনৈতিক অঙ্গনে সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলামের দলবদল নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি।

বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নয়—ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে আদর্শ বদলের প্রবণতা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রবণতা আবারও চরমভাবে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পর পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকতেই পুনরায় ভিন্ন দলে ফিরে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছেন একাধিক স্থানীয় নেতা। এতে করে প্রশ্ন উঠছে—এরা কি আদর্শের রাজনীতি করেন, নাকি ক্ষমতাকেন্দ্রিক সুবিধাবাদের রাজনীতি?বিএনপির বরিশাল সদর ৫ আসনের পদপ্রার্থী মুজিবর রহমান সরোয়ারের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদানের ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ছরিয়ে পড়লে বিএনপির তৃনমূল নেতা কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পরেন।এবং ছবি ঘিরে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়।অনেকে আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যঙ্গাংতক মন্তব্য করেন।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ নুরুল ইসলাম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি বিগত কাউন্সিলর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সরাসরি সমর্থন ও সহযোগিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ে তার অবস্থান, প্রচারণা এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল স্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগঘেঁষা।তার রয়েছে বরিশাল মহানগর আ’লীগের নেতা সাদেক আবদুল্লা ও খোকন আবদুল্লার সাথে একাধিক ছবি তার রয়েছে ১৫ আগস্টের শোকের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ওই সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে। এমনকি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেই তার চলাফেরা ও রাজনৈতিক অবস্থান ছিল প্রকাশ্য। কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর হঠাৎ করেই তিনি নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে শুরু করেন।

সম্প্রতি মোঃ নুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাকে জোর করে মুজিব কোট পরিয়ে আওয়ামী লীগ বানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিনি পূর্বে মহানগর বিএনপি কমিটির সদস্য ছিলেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

 

বিএনপির মহানগর শীর্ষ নেতা কর্মীদের মতে, যদি কেউ সত্যিই জোরপূর্বক কোনো দলে যুক্ত হয়ে থাকেন, তবে প্রশ্ন আসে—তাহলে নির্বাচনের সময় কেন প্রতিবাদ করা হয়নি? কেন সুবিধা নেওয়ার পুরো সময়জুড়ে নীরবতা পালন করা হলো? আর ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতেই কেন হঠাৎ অতীতের পরিচয় সামনে আনা হচ্ছে?জোর করে কেউতো তখন শোক বার্তার ব্যানার ফেস্টুন ও সম্মেলন করতে বলেনি সেটা তো সে স্ব-ইচ্ছায় করেছে।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আদর্শিক রাজনীতির বদলে সুবিধাবাদী রাজনীতিই এসব নেতাদের মূল চালিকাশক্তি। তারা বলেন, “ক্ষমতায় যে থাকে, এরা তার সঙ্গেই থাকে। আবার ক্ষমতা বদলালে নতুন পরিচয় নিয়ে হাজির হয়।”

এদিকে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের মতে, এ ধরনের দলবদল রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নষ্ট করছে। একই সঙ্গে ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও সামনে আসছে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, এই ধারাবাহিক সুবিধাবাদী রাজনীতি অব্যাহত থাকলে বরিশালের রাজনীতিতে আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও এটি বড় চ্যালেঞ্জ—তারা কি এই ধরনের সুযোগসন্ধানী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, নাকি নীরব সমর্থন দিয়েই যাবে?