
নিজস্ব প্রতিবেদক :: রোগী ধরা দালালের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের অসহায় রোগীরা। একাধিকবার আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে একাধিক দালাল আটক হওয়ার পরও কোনভাবেই থেকে কমছে না দালালদের দৌরাত্ম। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরীতে আসলেই পড়তে হচ্ছে দালালদের খপ্পরে। আর এতে করে রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার বদলে নি:স্ব হচ্ছেন রোগীরা। এসব দালালদের কার্যক্রম শুরু হয় মূলত নগরীর ৩টি স্পট থেকে। স্পটগুলো হলো : নগরীর নথুল্লাবাদ, রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড ও লঞ্চঘাট। এই ৩টি ম্পটে রিকশা ও অটোচালক বেশে বসে থাকে দালাল চক্রের সদস্যরা। রোগী পেলেই তাদের সাথে মিষ্টি কথা বলে ভুলিয়ে ফেলে। পরে রোগীদের ভাল চিকিৎসার কথা বলে নিয়ে যায় তাদের চুক্তিবদ্ধ ক্লিনিকে। তথা কথিত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের কাছে ধরে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে তাদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র। এতে করে রোগীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিপদগ্রস্থ হলেও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে দালাল নির্ভর চিকিৎসক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিক এবং দালাল চক্র। কিন্তু দালালদের প্রতিরোধে দেখা যাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোন ভূমিকা। মাঝেমধ্যে দু/একজন দালালকে আটকের মাধ্যমে আইওয়াশ দেখানো হলেও পরবর্তীতে আর কোন কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। তবে অভিযোগ উঠেছে সংশিষ্ট থানার কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মাসোহারার বিনিময়ে দালালি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে চক্রটি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির প্রতি মহানগর পুলিশের কমিশনার এর সুদৃষ্টি কামনাও করেছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই নগরীতে দালাল চক্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনাল, হাসপাতাল এবং সদর রোড এলাকার ডাক্তার পাড়ায় ওৎ পেতে থাকছে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। লঞ্চ কিংবা বাস থেকে টার্মিনালে নামামাত্রই কৌশলে রোগীদের ফাঁদে ফেলছে দালালরা। গ্রামগঞ্জ থেকে আসা রোগীদের ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট কোন হাতুড়ে ডাক্তারের চেম্বার কিংবা ক্লিনিকে।
লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনাল এবং সদর রোড এলাকায় চিকিৎসকের খোঁজ করা কিংবা হাতে পরীক্ষা নিরীক্ষার কাগজপত্র দেখা মাত্রই তাদের উপরে ঝাপিয়ে পড়ে রিকশা এবং অটোরিকশাচালক বেশে রোগী ধরার দালালরা। এমনকি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদেরকেও ফুসলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে হাতুড়ে চিকিৎসকদের চেম্বার, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। বিনিময় চিকিৎসক এবং দালাল নির্ভর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাচ্ছে মোটা অংকের পার্সেনটেজ। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, লঞ্চঘাট, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল, রূপাতলী বাস টার্মিনাল, সদর রোড এলাকা এবং শেবাচিম হাসপাতাল এলাকায় অর্ধশতাধিক দালাল রয়েছে। এদের মধ্যে পেশাদার চিহ্নিত দালালের চালিকায় রয়েছে প্রায় অর্ধশত দালাল। যারা শুধুমাত্র দালালি পেশার উপর নির্ভরশীল। এদের মধ্যে রয়েছে- চিহ্নিত দালাল আব্দুর রশিদ। জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার বেশে বসে থাকে সে। পাশাপাশি তার ভাই সহিদ এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করছে নগরীর বিশাল দালাল সিন্ডিকেট। রশিদ এবং সহিদ সহদর ছাড়াও তাদের দালাল সিন্ডিকেটে রয়েছে রিপন, রুহুল, নাসির, টেন্ডার আনিস, আনোয়ার, কালা মানিক, পাগলা মানিক, আমতলার মোড় এলাকার কাডবডি, বাচ্চু, কামাল লিটন, মনির। এদের একাংশের নিয়ন্ত্রন করছে নগরীর আলোচিত দালাল এবং চিকিৎসক হত্যা মামলার আসামী শাহীন ওরফে ঝাড়– শাহিন। এ দিকে উল্লেখিত দালাল চক্রটি সদর রোডের পাশাপাশি নথুল্লাবাদ, রূপাতলী বাস টার্মিনাল এবং লঞ্চঘাট এলাকায় রোগী ধরার ফাঁদ পাতছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ দালালই রিকশাচালক বেশে গ্রামঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে বরিশালে আসা রোগীদের ফাঁদে ফেলছে। এদের বাইরে সদর রোড এলাকায় রয়েছে দালালদের বিশাল সিন্ডিকেট। কাকলির মোড় থেকে হাসপাতাল রোডে সদর হাসপাতাল পর্যন্ত রোগী ধরার জাল বিস্তার করে রেখেছে চক্রটি। বিশেষ করে সদর রোডে বিবিরপুকুর পাড় সংলগ্ন ডাক্তার পাড়ায় এদের আনোগোনা বেশি। ১৫ থেকে ২০ জনের সংঘবদ্ধ দালাল ওৎ পেতে থাকছে রোগীদের আসায়। এর তালিকায় রয়েছে স্বপন, মিজান, সুমন, মাসুম, জাহাঙ্গীর, বাবু, সাদ্দাম ও বসন্ত। তাদের পাশাপাশি রিকশাচালক বেশে রয়েছে দালাল শাহ আলম, লিয়াকত ও সোহরাব। এরমধ্যে সোহরাব বেশিরভাগ সময় লঞ্চঘাট এলাকায় রিকশাচালক বেশে রোগী ধরার কাজ করছে।
ডা. হাসানুজ্জামান, ডা. হরিহর রায় চৌধুরী, ডা. মোশারেফ হোসেন, লঞ্চঘাট বিআরটিসি বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ডা. সোহরাব হোসেন সোহাগ সহ আরো বেশ কিছু হাতুড়ে ডাক্তারের রোগী ধরা দালাল হিসেবে কাজ করছে দালাল সংঘবদ্ধ দালাল চক্রটি। ইতিপূর্বে এসব দালালরা কয়েকবার ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। কিন্তু একদিনের মাথায় আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় দালালি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের ধরতে ডিবি কিংবা থানা পুলিশের কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।

