ঢাকাবুধবার , ৪ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যসের মনোনয়ন ঘিরে আলোচনায় মির্জা খাদিজা

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
মার্চ ৪, ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৬৮

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যসের মনোনয়ন ঘিরে আলোচনায় মির্জা খাদিজা।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদে খাদিজা মির্জার নাম ঘোষণার আগেই তাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বলছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস বিবেচনায় তাকে সংসদে দেখতে চান তারা।
বরিশালবাসীর একটি বড় অংশ মনে করেন, খাদিজা মির্জা একজন ত্যাগী নেত্রী। আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও কারাভোগের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা গড়ে উঠেছে। মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মত স্থানীয়দের।

বিএনপি সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনোনয়ন ঘিরে বরিশালে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বরিশাল জেলায় একাধিক নারীনেত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, কেউ কেউ ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং হাইকমান্ডে নিজেদের রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। রাজপথের ত্যাগী নেত্রী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিক— সবাই এখন দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
এ প্রেক্ষাপটে আলোচনায় রয়েছেন বরিশাল জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি খাদিজা মির্জা।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

তিনি বাকেরগঞ্জ মহিলা দলের সভানেত্রী ও উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। মাঠ পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন

মীর্জা খাদিজা বেগম


রাজনৈতিক পরিচয়
বরিশাল জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহিলা দলের সিনিয়র সভাপতি
বাকেরগঞ্জ থানা মহিলা দলের সভানেত্রী
বাকেরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য
বাকেরগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান
রাজনৈতিক জীবন ও নির্যাতনের বিবরণ
মীর্জা খাদিজা বেগম দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচিত হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে তার বিজয়ের ফলাফল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া-র গাড়িবহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ঢাকার কেন্দ্রীয় কাশিমপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ঢাকায় আরও পাঁচটি মামলা অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং বরিশালেও একাধিক মামলায় আসামি করা হয়।

তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্নভাবে আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দ্বারা একাধিকবার তার বাসভবনে হামলা, শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন
এছাড়া তার সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছেলেকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়, যার ফলে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি চাকরি হারান বলে জানা যায়।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাভোগ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মনোনয়নে খাদিজা মির্জা একজন শক্তিশালী দাবিদার। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন সবাই।