ঢাকাMonday , 12 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে ২ দিনের জমকালো আয়োজন, তারকা কনসার্ট থাকছেন শাকিব খানসহ একাধিক তারকা

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৮৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে ২ দিনের জমকালো আয়োজন, তারকা কনসার্ট থাকছেন শাকিব খানসহ একাধিক তারকা

 

হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুয়াকাটায় ছোট-বড় তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে ১৬, ১৭, ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবরের জন্য প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর অধিকাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতেও গড়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। ছুটি ঘনিয়ে এলে বাকি কক্ষগুলোও পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ইতোমধ্যে কুয়াকাটার প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেলকক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। ছোট-বড় হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মিলিয়ে একসঙ্গে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাড়তি পর্যটকের চাপ সামলাতে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০টি বাসাবাড়িও হোমস্টে হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার পাঁচ থেকে সাত হাজারের বেশি শ্রমিক প্রস্তুত রয়েছেন। শতাধিক প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডের পাশাপাশি অন্য খাতের আরও দুই শতাধিক শ্রমিককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।

হোটেল বেস্ট সাউদার্নের পরিচালক জনি জানান, তাঁদের হোটেলের ৩১টি কক্ষ ১৬, ১৭, ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবরের জন্য শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অন্য দিনগুলোতেও ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। কক্ষ খালি না থাকায় অনেক পর্যটকের বুকিং অনুরোধ রাখা যাচ্ছে না।

হোটেল সাউথ স্টারের পরিচালক মো. মিঠুন তালুকদার বলেন, তাঁদের দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলে মোট ২২টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে গড়ে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। অন্য সময়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হলেও এবার ছাড় দেওয়া হচ্ছে ১০ থেকে ২০ শতাংশ। দিনের বেশির ভাগ সময় জেনারেটর চালানো এবং বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়ের কারণে পরিচালন খরচও বেড়েছে। বছরের তিন থেকে চার মাসের পর্যটন মৌসুমের আয় দিয়েই সারা বছর চলতে হয় বলে জানান তিনি।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক ও হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মো. রাসেল বলেন, দুর্গাপূজার সময় কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। এ সময়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হোটেল-মোটেল মালিক ও পরিচালকদের ভাড়া না বাড়ানো এবং খাবারের মান ও দাম ঠিক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রস্তুতি

দীর্ঘ ছুটি ও পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে বাড়তি পর্যটকের চাপ সামলাতে প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছে।

তবে পর্যটন মৌসুম ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশার পাশাপাশি অবকাঠামো নিয়ে হতাশাও রয়েছে। তাঁদের মতে, পর্যটন খাতে বিপুল বিনিয়োগ হলেও সৈকত, সড়ক, পরিচ্ছন্নতা ও যোগাযোগব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।

দীর্ঘ নয় বছর পর কুয়াকাটায় ফিরছে পর্যটন কার্নিভাল। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে রয়েছে বিচ ফুটবল, বিচ রান, তারকা কনসার্ট, ঘুড়ি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিচ ফ্যাশন শো, বাউল গানের আসর, সেলিব্রিটি বিচ ক্রিকেট, ফুড ফেস্টিভ্যাল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কার্নিভালের মাধ্যমে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

যাদের থাকা কথা রয়েছে

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের প্রকাশিত তালিকায় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান, হাসান (আর্ক), চিশতী বাউল ও আরমান আলিফের পাশাপাশি জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, সাবেক ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার সুমন ও মোহাম্মদ আশরাফুল, ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয় এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাদ্দাম মালের নাম রয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছেন সংগীতশিল্পী ঐশী, লেমিস, অভিনেত্রী ও মডেল নোমনি এবং ফুড ব্লগার ‘পেটুক সাহেব’সহ অন্যরা।

তবে শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’খ্যাত চাষী ভাই এবং ‘পেটুক কাপল’-এর অংশগ্রহণের বিষয়ে পর্যটন করপোরেশনের প্রকাশিত তালিকায় নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের অংশগ্রহণের বিষয়টি আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় পর্যটকের বাড়তি সমাগমের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যাপ্ত আবাসন, নিরাপত্তা, সেবার মান ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সামাল দিতে পারলে এ আয়োজন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা