ঢাকাThursday , 17 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাকেরগঞ্জে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ, বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ!

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৮

স্টাফ রিপোর্টার :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি বাজারে দলিলমূলে জমির মালিকানা থাকা সত্ত্বেও ভোগদখলে বাধা এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহিউদ্দিন মন্টুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালে স্থানীয় লোকমান হোসেন গংয়ের কাছ থেকে সৈয়দ মাহবুব আলম ফোরকান ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। জমিটি ৩৮২৪/২৫ দাগের মোট ৩৯ শতাংশ জমির অংশ বলে জানা গেছে। ক্রয়ের পর ওই জমি তার নামে রেকর্ডও করা হয়েছে বলে দাবি করেন ফোরকান।
ফোরকানের অভিযোগ, জমি কেনার পর থেকেই মহিউদ্দিন মন্টু বিভিন্নভাবে তাকে জমিতে প্রবেশ ও ভোগদখলে বাধা দিয়ে আসছেন। এমনকি ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক মামলা ও স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানান ফোরকান।
পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। ফোরকানের দাবি, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীয় জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও এবং পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মহিউদ্দিন মন্টু।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দলিলপত্র অনুযায়ী তারা সৈয়দ মাহবুব আলম ফোরকানকেই ওই ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ জমির মালিক হিসেবে জানেন। তবে জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
অভিযোগের বিষয়ে মহিউদ্দিন মন্টু বলেন, “৩০-৪০ বছর ধরে আমার স্বজনরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।” তবে একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সরকারি সম্পত্তি হয়ে থাকলে সেখানে তার নির্মাণকাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এদিকে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সোহেল জানান, আদালতের নির্দেশনার কাগজ তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “বিরোধীয় জমিতে মহিউদ্দিন মন্টু যাতে কোনো ধরনের কাজ করতে না পারেন, সে বিষয়ে তাকে নোটিশ দিয়ে আসব।”
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—দলিল, রেকর্ড ও আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে এর পেছনে কার প্রভাব কাজ করছে? বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।