
বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি :: বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইয়াকুব আলী হাওলাদারের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং পাকা ইমারত নির্মাণের পায়তারার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বানারীপাড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৃত ইয়াকুব আলী হাওলাদারের ছেলে হারুন অর রশিদ। এসময় তার ভাই করিম হাওলাদারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী দুই ভাই জানান, ১৯৮৪ সালে তাদের বাবা মৃত ইয়াকুব আলী হাওলাদার স্থানীয় মকবুল হোসেন মল্লিকের কাছে চৌহাদ্দি নির্দিষ্ট করে ১৭ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। বানারীপাড়া মৌজার ৬ ৩৩ খতিয়ানের ৪২ নম্বর জে.এল-এর ৫৮৬, ৫৮৭ ও ৫৮৮—এই তিনটি দাগ থেকে জমিটি বিক্রি করা হয়েছিল।
দলিলের তথ্য অনুযায়ী নদী ভাঙন বা পলি জমে জেগে ওঠা সিকিস্তি জমি। দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, এই সিকিস্তি অংশ থেকে মকবুল হোসেন মল্লিক দেড় (১.৫) শতাংশ জমি ভোগদখল করবেন।বাকী ১৫.৫ শতাংশ জমি এই মূল দাগ থেকে ভোগ করার কথা ছিল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত মকবুল হোসেন মল্লিক দলিলের চৌহাদ্দি ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে সিকিস্তির দেড় শতাংশ জমি বাদ দিয়ে ইয়াকুব আলী হাওলাদারের মূল পৈত্রিক সম্পত্তি (৫৮৭ দাগের ৪০ শতক জমি) থেকে জোরপূর্বক লম্বালম্বিভাবে অতিরিক্ত জমি জবরদখল করে ভোগ করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারটি দাবি করে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা বয়সে ছোট থাকায় মকবুল হোসেন মল্লিক বিভিন্ন হামলা ও মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের জমি জবরদখল করে রাখেন।
বর্তমানেও তাদের বিরুদ্ধে বরিশালে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মামলায় আসামি বানিয়ে আটকে রেখে বিতর্কিত ওই জমিতে দ্রুত পাকা ইমারত নির্মাণের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের বাবার লিখিত দলিলের চৌহাদ্দি ও শর্ত মেনে জমি ভোগদখল নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি অন্যায় জবরদখল ও মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

