
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :: ‘আমাদের বিদ্যালয় নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করুন। না হলে আমরা আর পড়ালেখা করতে পারব না, আমাদের ঘরবাড়িও কিছু থাকবে না।’ আবেগজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানহা আক্তার। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ৯০ নং মধ্য-পশ্চিম ভূতেরদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের মুখে। বিদ্যালয়টি রক্ষাসহ বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে কেদারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূতেরদিয়া ও উত্তর বাহেরচর বাজারসংলগ্ন ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন হয়। এতে ভাঙনকবলিত পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে সন্ধ্যা নদীর তীব্র স্রোতে পশ্চিম ভূতেরদিয়া এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রামের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীতীরবর্তী অর্ধশতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বসতভিটা হারানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়, বাজার, দোকানপাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ৯০ নম্বর মধ্য-পশ্চিম ভূতেরদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহেরচর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া একটি স’মিল এবং উত্তর বাহেরচর বাজার ও বাজারের শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে ঝুঁকিতে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী তানহা আক্তার বলে, ‘আমাদের বিদ্যালয় নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করুন। না হলে আমরা আর পড়ালেখা করতে পারব না। আমাদের ঘরবাড়িও কিছু থাকবে না।’
বাহেরচর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বজলুর রহমান মিন্টু বলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর নদীভাঙনে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্ষা এলেই সন্ধ্যা নদীর প্রবল স্রোতে ভাঙন তীব্র হয়। স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই মানুষ বসতভিটা হারাচ্ছেন। এবার পশ্চিম ভূতেরদিয়া এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
কেদারপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহসিন মুন্না বলেন, পশ্চিম ভূতেরদিয়ার বিদ্যালয়, স’মিল, বাহেরচর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাজারের দোকানপাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। দ্রুত নদীতীরে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
মানববন্ধনে স্থানীয় সমাজসেবক বিলাস খান, মুন্না হাওলাদার, রিপন হাওলাদার, মিজান হাওলাদার, শাহে আলম হাওলাদার, ইউসুফ চৌকিদার, আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার, মো. রহমান হাওলাদার, পলাশ খানসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতভিটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁরা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান।
ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনা রক্ষায় পর্যায়ক্রমে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

