
জুবায়ের ইসলাম চৌধুরী :: মামলাজনিত জটিলতার কারণে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানসহ বিভিন্ন পদে শিক্ষক নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
বুধবার (২৫ জুন) বেলা ১১টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে মোট ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি পদগুলোতেও নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে বিভিন্ন মামলার কারণে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে নিয়োগ কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।
সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহকারী সুপার ও প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৮ম বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে ১২ হাজার ৯৫১টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৫৩ হাজার ৬১ জন প্রার্থী। গত ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নেন ৪৮ হাজার ৯৪৬ জন। ফল প্রকাশের পর ১৪ হাজার ৯৪২ জন লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হন। তবে চলমান মামলার কারণে নিয়োগ কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ স্থগিত রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না। তবে আদালত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। ফলে খুব শিগগিরই প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. সরফুদ্দীন সান্টু, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুছুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

