
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের তোহা বাজারের সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে রাতের আঁধারে বালু ভরাট করে প্রায় দুই কোটি টাকার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল ফরাজীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের নিয়ামতি বাজারের তোহা বাজার এলাকায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে রোববার দিবাগত রাতে বালু ভরাট করা হয়।
বাজারের ব্যবসায়ী মিজান খান জানান, রাতের আঁধারে সরকারি ওই জমিতে বালু ভরাট করা হয়। বাজারের ১৯-২০ জন ব্যবসায়ীকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করে কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের উদ্দেশ্যেই বিএনপি নেতা সোহেল ফরাজী এ কাজ করেছেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানান।
ব্যবসায়ীরা জানান, ওই জমিতে ফিরোজ আলম হাওলাদার, দিলীপ সাহা, সৈয়দ আলী, গোবিন্দ শীল, শহিদুল ইসলাম, মতিন জোমাদ্দার, সাত্তার মল্লিক, ক্বারী মুহাম্মদ রুহুল আমিন হাফেজ মুঈন, উজ্জল খান, মিজান খান, কামাল সিকদার, রায়হান জোমাদ্দার, শামস, বাবুল হাওলাদার, মুজিবুর রহমান মৃধা, জাকির হাওলাদার ও মনির হাওলাদারসহ ১৯-২০ জন ব্যবসায়ী মুদি মনোহরী, আইসক্রীম ফ্যাক্টরি, মুরগীর দোকান, টিনের আড়ত ও মিলসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। ওই জমি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি বন্দোবস্তের মাধ্যমে ১২-১৩ জন ব্যবসায়ীর নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। বাকিরা তাদের নিজেদের জমিতে দোকান ঘর তুলে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে সরকার ওই বন্দোবস্তের ডিসিআর স্থগিত করে। তবে বর্তমানে বন্দোবস্তপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জমিটি ভোগদখলে করে ব্যবসা বাণিজ্য করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল ফরাজী জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ওই জমিতে বাজারে চার তলা বিল্ডিং নির্মাণ করতে বালু ভরাট করা হয়েছে। বিল্ডিং নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ঠিকাদার নির্মাণ করবে তাহলে সরকারি জমিতে রাতের আঁধারে তিনি কেন বাবলু ভরাট করলেন এ প্রশ্ন করা হলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
সরকারি তোহা বাজারের জমিতে রাতের আঁধারে বিএনপি নেতার বালু ভরাটের বিষয়ে সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, বালু ভরাটের বিষয়টি তাদের জানা নাই। যদি কেউ সরকারি তোহা বাজারে বালু ভরাট করে থাকে তাহলে তিনি সেটি অপরাধ করেছেন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে তিনি ইতিমধ্যেই নিয়ামতি ইউনিয়ন তহশিলদেরকে সেখানে সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধে সাইনবোর্ড লাগিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপরেও কেউ যদি অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করতে চায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

