ঢাকাWednesday , 9 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংসদে রুমিন ফারহানাকে অশালীন ভাষায় গালাগালের অভিযোগ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল’-এর ওপর আলোচনাকালে এ ঘটনা ঘটে। সরকারি দলের সদস্যদের তুমুল হইচইয়ের কারণে কিছু সময়ের জন্য অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। এ সময় রুমিন ফারহানা অভিযোগ তোলেন, বক্তব্য চলাকালে সরকারি দলের দিক থেকে তাকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে।

gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সারকারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে দেশ দুর্নীতিতে শীর্ষে এবং ঋণখেলাপির পরিমাণ ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বর্তমান সংসদকে ‘অসহিষ্ণু’ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদের আচরণের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেন, এই সংসদের অধিকাংশ সদস্যই ঋণখেলাপি, যারা নির্বাচনের আগে উচ্চ আদালতের রিটের মাধ্যমে নাম কাটান।

রুমিনের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি দলের সদস্যরা সমস্বরে চিৎকার ও হট্টগোল শুরু করেন। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে মাইক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও রুমিন দাঁড়িয়ে মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন এবং স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে তাকে অশালীন গালি দেওয়া হচ্ছে। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, প্রত্যেক সদস্যেরই সংসদে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। বক্তব্য চলাকালে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার এখতিয়ার স্পিকারের রয়েছে। একই সঙ্গে হাউসের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজ দলের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিফ হুইপকে তার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেন ডেপুটি স্পিকার।

পরবর্তীতে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার রুলিং দিতে পারেন কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তার জবাব দিতে পারেন। অন্যদিকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে এবং সদস্যদের বক্তব্য উপস্থাপনে সংযত হওয়া দরকার। পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনাকাঙ্ক্ষিত এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মূল অর্থনৈতিক সংস্কারের বিল নিয়ে আলোচনা না করে সম্পূর্ণ একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা দুঃখজনক।