
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী, দরিদ্র কৃষক বাবার কন্যা পারজানা পেল এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ হতে চান চিকিৎসক।
সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী, দরিদ্র কৃষক বাবার পক্ষে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানোও ছিল অনেক সময় কঠিন। ছিল না নামিদামি কোচিং কিংবা প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ। তবে এসব বাধা দমাতে পারেনি সীতাকুণ্ডের পারজানা আক্তারকে। নিজের অধ্যবসায়, শিক্ষকদের সহযোগিতা আর পরিবারের অনুপ্রেরণায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।
পারজানা সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। এর আগে অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল পারজানা।
ফল প্রকাশের দিন ফলাফল হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত উৎকণ্ঠায় ছিল পারজানা। পাস করবে—এ বিশ্বাস থাকলেও কাঙ্ক্ষিত গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাবে কি না, তা নিয়ে ছিল শঙ্কা। শিক্ষকের কাছ থেকে ফলাফলের শিট হাতে পাওয়ার পর নিজের ফল দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলে পারজানা।
পারজানার বাবা নুরুল ইসলাম একজন কৃষক। মা খতিজা বেগম গৃহিণী। তাঁদের সংসারে অভাব-অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী। মেয়ের স্কুলের মাসিক বেতন পরিশোধ করতেও অনেক সময় বাবাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। ফলে কোচিং বা প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ হয়নি পারজানার। বাড়িতে নিজে পড়াশোনা করেই কঠিন বিষয়গুলো আয়ত্ত করেছে সে।
নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার সময় কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে কিছুটা ভয় কাজ করেছিল পারজানার মধ্যে। পরে বড় ভাইয়ের উৎসাহে বিজ্ঞান বিভাগ বেছে নেয় সে। একটি গণমাধ্যমে সামান্য বেতনে চাকরি করা সাংবাদিক বড় ভাই ছিলেন তার পড়াশোনার অন্যতম অনুপ্রেরণা।
কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে শিক্ষকদের সহযোগিতা নিত পারজানা। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগও তাকে নিয়মিত ক্লাস করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করার পাশাপাশি বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনা করেই এগিয়ে গেছে সে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম রাব্বানি বলেন, পারজানা ছিল অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও নিয়মিত শিক্ষার্থী। পড়ালেখার প্রতি আন্তরিকতা ও শিষ্টাচারের কারণে শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে সে ছিল প্রিয়।
সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিদারুল আলম বলেন, ক্লাসে মনোযোগী হওয়া এবং শিক্ষকদের কথা মেনে চললে ভালো ফলাফল করা সম্ভব। পারজানা তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন তিনি।
পারজানার সাফল্যে আনন্দিত তাঁর বাবা-মা। তাঁদের স্বপ্ন, মেয়ে ভবিষ্যতে এমবিবিএস চিকিৎসক হবে এবং মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবে।
পারজানা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বপ্ন একজন চিকিৎসক হওয়া। মানুষের সেবা করতে চাই। বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ভবিষ্যতে নিজের সাফল্যের মাধ্যমে তাঁদের সেই কষ্টের প্রতিদান দিতে চাই।’

