
আল আমিন গাজী :: বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী মান্নান হাওলাদার । প্রায় ২৪ বছরের চাকরিজীবন। দীর্ঘ এই সময়ে চাকরির আয়ের পাশাপাশি তার নামে ও দখলে গড়ে ওঠা জমি-বাড়ির পরিমাণ নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন কর্মচারীর দীর্ঘ চাকরিজীবনের আয় দিয়ে এসব সম্পদ অর্জন কতটা সম্ভব?
অনুসন্ধানে পাওয়া ও স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের ধোপাকাঠি এলাকায় আবদুল মান্নানের রয়েছে একাধিক জমি। ধোপাকাঠি জেলেবাড়ি ক্লিনিকের সামনে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ জমির ওপর ৩তলা ফাউন্ডেশনে নির্মাণ করা হয়েছে একটি একতলা বাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটি নির্মাণে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং ওই জমির মূল্য আনুমানিক ১২ লাখ টাকা বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। শুধু বাড়িই নয়, ধোপাকাঠির অন্য একটি স্থানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের জমি এবং আরও একটি স্থানে প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের জমি রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে ধোপাকাঠি এলাকায় তার জমির পরিমাণ প্রায় ৪৩ থেকে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ রীতিমতো প্রশ্ন তুলেছেন
২৪ বছরের চাকরিতে আলাদীনের চেরাগ’—নাকি দীর্ঘদিনের সঞ্চয়? এত জমি ও বাড়ির মালিক হওয়ার পেছনে অর্থের উৎস কী? তাদের অভিযোগ অনুযায়ী , মান্নানের দৃশ্যমান সম্পদের পরিমাণ এবং একজন শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী হিসেবে তার চাকরিজীবনের আয়—এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ধোপাকাঠিতে নির্মিত বাড়িটিতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বাড়ি নির্মাণের পর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও ব্যাপক আয়োজন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে দুইটি গরু জবাই করে স্বজন ও স্থানীয়দের আপ্যায়ন করা হয়। পরবর্তীতে কোরবানির সময়ও দুইটি গরু কোরবানি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অপরদিকে অভিযোগের বিষয়ে মান্নান হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি ২৪ বছর চাকরি করি। ৪৩ শতাংশ জমি কিনেছি ধোপাকাঠিতে। বর্তমানে তিন মেয়েসহ পরিবার নিয়ে কাশিপুর ফিসারি রোডে বাসা ভাড়া থাকি। আমার ১৮ লাখ টাকা লোন নেওয়া আছে। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি। ২৪ বছর চাকরি করে বাড়ি ও জমি গড়েছি। অর্থাৎ আবদুল মান্নানের দাবি, তার সম্পদ দীর্ঘ ২৪ বছরের চাকরিজীবনের আয় ও ঋণের মাধ্যমে অর্জিত এবং এর সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্নীতির সম্পর্ক নেই।
তবে বর্তমানে বাসা ভাড়া ও তিন মেয়ের পিছনে মাসে অর্ধলক্ষ টাকা খরচের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব আমার চাকুরির আয় থেকে করি। তার এমন সল্প আয়ের সম্পদ, সংসার খরচ, কাশিপুরে ৩ শতাংশ জমি, ধোপাকাঠিতে জমি, বাড়ির বিষয় কোন উওর দিতে পারে নি।
তবে বিষয়টি এখন আর শুধু স্থানীয় আলোচনা নয়; আবদুল মান্নানের সম্পদ ও অর্থের উৎস নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন কি না—সেটিই সামনে আসছে বড় প্রশ্ন হিসেবে?

