ঢাকাFriday , 2 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অসহায় পরিবারের দায়িত্ব নিলেন হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৬
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) :: অপারেশনের ক্ষত, ঘরে অভাব আর তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া এলাকার রুবি আক্তারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে রুবি আক্তারের পরিবারের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. আসাদুল্লাহ তাদের খোঁজখবর নেন। পরে পরিবারের খাবারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা ও বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ফাউন্ডেশনটি।
এর অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রুবি আক্তারের পরিবারের কাছে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব খাদ্যসামগ্রী দিয়ে পরিবারটির প্রায় এক মাসের খাবারের চাহিদা মেটানো যাবে।
খাদ্যসামগ্রী হস্তান্তর করেন হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার নুর আলম বাপ্পি। এ সময় বাবুগঞ্জে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, রুবি আক্তারের পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণ এবং তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে এসব সহযোগিতা করা হবে।
রুবি আক্তার (৩৫) কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া এলাকার বাসিন্দা। মাত্র দুই শতাংশ জমির ওপর সরকারি সহায়তায় পাওয়া ছোট্ট একটি ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার।
পিঠে টিউমার ধরা পড়ার পর ধারদেনা করে অস্ত্রোপচার করান রুবি। তবে অস্ত্রোপচারের পরও ক্ষত ও শারীরিক যন্ত্রণায় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। চিকিৎসার খরচ, সন্তানদের খাবার ও সংসারের ব্যয়, সব মিলিয়ে চরম সংকটে দিন কাটছিল পরিবারটির।
রুবির স্বামী ইয়াদুল মাঝি বাক্‌প্রতিবন্ধী। একসময় ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করলেও বর্তমানে তাঁর নিয়মিত কোনো আয় নেই। পরিবারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং স্ত্রী-সন্তানদের আর্থিক সহযোগিতাও করতে পারছেন না।
পরিবারের বড় ছেলে বাবুগঞ্জ বাজারে কাঁচা তরকারির দোকানে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে তাকেও কাজ ছেড়ে দিতে হয়েছে। ফলে পরিবারের আয়ের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের খাদ্যসহায়তা পেয়ে পরিবারটির মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়রা রুবির চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. আসাদুল্লাহ বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রুবি আক্তারের পরিবারের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপাতত পরিবারের খাবারের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি ঘর নির্মাণ ও রুবির চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরিবারটির প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।