
বিনোদন ডেস্ক :: ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা
ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী দীপিকা কাকর কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহিমকে বিয়ে করার কারণেই তিনি ধর্মান্তরিত হন। তবে এই ধারণাকে নাকচ করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার সহশিল্পী জয়তী ভাটিয়া।
ভারতীয় টেলিভিশন উপস্থাপক সিদ্ধার্থ কান্নানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়তী ভাটিয়া বলেন, ‘সসুরাল সিমর কা’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করার সময় দীপিকা ও শোয়েবের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার ভাষায়, দীপিকা যে কাজই করেন, মনপ্রাণ দিয়ে করেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি একই আন্তরিকতা দেখিয়েছিলেন।
জয়তী জানান, একসময় তিনি নিজেই দীপিকাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, শোয়েবকে বিয়ে করার জন্যই কি তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। উত্তরে দীপিকা তাকে জানান, বিষয়টি মোটেও তা নয়।
জয়তীর বক্তব্য অনুযায়ী, জীবনের এক কঠিন সময়ে দীপিকা আজমীর শরীফ দরগাহে গিয়েছিলেন। সেই সফরের সময় তিনি মানসিক শান্তি ও ভেতরের শক্তি অনুভব করেন। এরপরই ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। দীপিকার ভাষায়, এটি ছিল সম্পূর্ণ তার নিজের অনুভূতি ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যার সঙ্গে বিয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
জয়তী আরও বলেন, যদি কোনো ধর্মের প্রার্থনা একজন মানুষকে মানসিক শক্তি দেয় এবং সেই বিশ্বাস থেকে তিনি নতুন জীবনদর্শন বেছে নেন, তবে সেটি তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
দীপিকা স্বামীর ধর্মের কাছে নতিস্বীকার করেছেন— এমন সমালোচনারও জবাব দেন জয়তী। তিনি বলেন, দীপিকা ও শোয়েব সবসময় একে অপরকে সমানভাবে সমর্থন করেছেন। দীপিকা অসুস্থ হলে শোয়েব তার পাশে ছিলেন। আবার দীর্ঘদিন ধরে শোয়েবের পরিবারকেও সমর্থন দিয়ে আসছেন দীপিকা।
২০২৫ সালে দীপিকা কাকরের ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তিনি ও শোয়েব তাদের ভিডিও ব্লগের মাধ্যমে চিকিৎসা এবং সুস্থতার বিভিন্ন আপডেট ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন।
জয়তী আরও উল্লেখ করেন, তাদের ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘দীপিকা কি দুনিয়া’। তার মতে, এটি দেখায় যে দীপিকার নিজস্ব পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে সবসময় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও দর্শকদের কাছে তিনি এখনো ‘সিমর’ চরিত্রের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
উল্লেখ্য, দীপিকা কাকর ও শোয়েব ইব্রাহিম ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাদের রুহান নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। দীপিকার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে জয়তী ভাটিয়ার এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর।

