ঢাকাTuesday , 22 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৌখিক নোটিশে চাকরিচ্যুত বরিশাল জেলা প্রশাসক অফিসের ৬৫ মাস্টার রোল কর্মচারীর সংবাদ সম্মেলন 

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার আশায় দীর্ঘ ১৫-১৮ বছর ধরে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মাস্টার রোলে বিভিন্ন পদে চাকরি করে আসছিলেন ৬৫ জন কর্মচারী। পূর্বের জেলা প্রশাসকদের প্রতিশ্রুতি ছিল সরকারি নিয়োগের মাধ্যমে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে তাদের।

কিন্তু তা না করে মৌখিক নোটিশে একযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ৬৫ জন কর্মচারীকে। এ আদেশের বিরুদ্ধে এবং স্থায়ীভাবে চাকরি ফিরে পেতে কর্মচারীদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট করেছেন ২১ জন চাকরিচ্যুত ওমেদার।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বরিশাল প্রেস ক্লাবের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাকরি বঞ্চিতরা এসব কথা জানান। এসময় সম্প্রতি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চাকরি পাওয়া কর্মচারীদের নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

চাকরিচ্যুতদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে মো. আশিকুর রহমান জানান, দীর্ঘ বছর ধরে তাঁরা সরকারি সব নিয়ম মেনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু অজানা কারণে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ কর্মচারীদের বাদ দিয়ে সম্প্রতি ৫৭ জন নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।বরিশাল সম্পর্কিত খবর

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ১০ জুন বরিশাল প্রশাসক কার্যালয় নেজারত শাখায় অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বাবুর্চি ও বেয়ারারসহ মোট ৪৮টি পদে নিয়োগের ছাড়পত্র দেয়। পরবর্তীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে ৩ হাজার ৭০১টি বৈধ আবেদন জমা পড়ে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মুশফিকুর রহমান কোন কারণ ছাড়াই ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নিয়োগ স্থগিত করেন।

তিনি বলেন, পরবর্তী ২০২৪ সালে জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের জন্য পুনঃরায় ছাড়পত্র চেয়ে নেজারত শাখা চিঠি ইস্যু করলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ১৭ মে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অধিনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং বরিশাল সার্কিট হাউজেসহ মোট ৮৩ পদের অনুকূলে নতুন ছাড়পত্র আসে।

 

তিনি আরও বলেন, নিয়োগটি চলে যায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ডিএসবি শাখায়। পরে অনলাইনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে অনেকেই আবেদন করেন। পরে পদলি হন জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে যোগদান করা জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের কাছ থেকে কোন সহযোগিতা না পেয়ে আমিসহ ২১ জন কর্মচারী বাদী হয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করি। আদালত বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে চার সপ্তাহের ভিতরে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।সংবাদপত্রের খবর

আশিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘আদালতকে জবাব না দিয়ে বরং তাঁরা চলতি বছরের গত ১০ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষার কার্ড ইস্যু করে। এর পেক্ষিতে আদালত থেকে দুই মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়া হয় এই কার্যক্রমে। পরবর্তী বিভাগীয় কমিশনার স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আপিল করেন। তখন চেম্বার আদালত স্থগিতাদেশের রায়ে ২১টি পদ সরংক্ষণ করার জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে আদেশ দেন।

এ অবস্থায় চলতি বছরের ৯ আগস্ট ২১ পদ সংরক্ষণ পূর্বক ৬২ জন প্রার্থীকে অপেক্ষামান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে হাইকোর্টে মামলা করা ২১টি পদ আদৌ সংরক্ষ করেছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানান চাকরিচ্যুতরা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৩ সেপ্টেম্বর তড়িঘড়ি করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২১টি পদ (মামলাকারী) বাদে ৮৩টি পদের ৬২ পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই পদে ৫ জন যোগদান না করায় ৫৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়।

এসময় নিয়োগে প্রার্থীদের যোগ্যতা, কোটা, পদ সংরক্ষণ এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন চাকরিচ্যুতরা। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেন।বরিশাল সম্পর্কিত খবর

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। একদিকে আবেদন ও পরীক্ষা শেষ হয়েছে, অন্যদিকে আদালতের নির্দেশনা ও সংরক্ষিত পদ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। তাই আদালতের সব নির্দেশনা প্রকাশ্যে এনে তার যথাযথ বাস্তবায়ন, সংরক্ষিত পদ ও অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান চাকরিচ্যুতরা।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো বিষয় আমাদের হাতে ছিল না। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সুপারিশকৃতদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, ‘নিয়োগ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হয়েছে। এতে কোন অনিয়ম হয়নি। বরং নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং নির্ভুল করতে দুবার ভাইবা পরীক্ষা নেয়া হয়েছে- যাতে কেউ বডি চেঞ্চ করে চাকরি নিতে না পারে সে জন্য। তাছাড়া যারা চাকরি পেয়েছে তারাই স্বচ্ছতার বিষয়ে বলবে বলেন বিভাগীয় কমিশনার।

তিনি বলেন, যারা দীর্ঘ বছর এখানে চাকরি করেছেন তারা কিভাবে বিনা বেতনে এত বছর চাকরি করলো, তাদের আয়ের উৎস কী ছিল সে বিষয়টিও সাংবাদিকদের খতিয়ে দেখা উচিত।