ঢাকাসোমবার , ১৮ মে ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টুলুর নেতৃত্বে বরিশাল থেকে পাচার হচ্ছে রেনু পোনা

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
মে ১৮, ২০২৬ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাগধা রেনু পাচারের বড় একটি রুট বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বরিশাল নগরীর মধ্য থেকে চলে যাওয়া ১২ কিলোমিটার এলাকা । ৫ই আগস্ট এর পূর্বে আওয়ামী লীগের নেতারা এর সাথে জড়িত ছিল।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়েছে পাচারের সাথে সংযুক্ত নেতাকর্মীও। বর্তমানে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এ পাচারের বিট মানি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আর এর নেতৃত্বে রয়েছেন মহানগর বিএনপির এক নেতা। তার নির্দেশেই ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা রেনু পাচারে সহযোগিতা করছেন।
রেনু পাচারের মূল হোতা হচ্ছেন গোপালগঞ্জের টুলু। তার কাছ থেকে বিট মানি নিয়ে রেনু বহনকারী গাড়ি নির্বিঘেœ পার করে দিচ্ছেন বরিশাল বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর সাথে যুক্ত রয়েছেন বিভিন্ন থানার পুলিশের সদস্যরাও। টুলুর সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক একনেতা, ২৩, ২৪ ও ২৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মী, পলাশপুরে হারুন ওরফে পাতিল হারুন, নগরীর প্যারারা রোডের বিপ্লব এবং কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের মাঝিরা।

নৌযানে যখন রেনু বিভিন্ন স্পটে নিয়ে যাওয়া হয় তখন নিরাপদে পার করে দেওয়ার জন্য ওই সকল মাঝিরা কাজ করে। সড়কে তাদের কোন দায়িত্ব নেই।
বেশিরভাগ রেনু পাচার হচ্ছে ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী উপকূলীয় এলাকা থেকে।

সাগর-নদী পেরিয়ে রেনু চলে আসছে পটুয়াখালীর বাউফলে কালাইয়া লঞ্চঘাট, বরিশালের বাকেরগঞ্জের লেবুখালী সেতু সংলগ্ন এলাকা, বাকেরগঞ্জের গোমা ফেরিঘাট, ভোলার লাহারহাট ফেরিঘাট, বরিশাল সদর উপজেলার নেহালগঞ্জ ফেরিঘাট, বাবুগঞ্জের মিরগঞ্জ ইটভাটা এলাকা, দোয়ারিকা শিকারপুর ব্রিজের নিচ এলাকা, বরিশাল সদর উপজেলার তালতলী ও শায়েস্তাবাদ এলাকা থেকে বিভিন্ন সময় রেনু ট্রাকে তুলে তা বরিশালে রুট ব্যবহার করে খুলনা ও বাগেরহাটে পাচার করা হচ্ছে।

এসব এলাকা ব্যবহার করায় সেখানকার বিএনপি নেতাকর্মীদের মাধ্যমেই রেনু পোনা গাড়িতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে এর সাথে জড়িতরা জানিয়েছেন।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে রেনু গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। এর নেতৃত্ব দিচ্ছে গোপালগঞ্জের টুলু। বরিশালের সহযোগিতা করছেন মহানগর বিএনপির এক নেতা।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন-এক এক সময় ভিন্ন ভিন্ন রুট ব্যবহার করা হয়। আমরা ৩-৪ জন মোটরসাইকেল বাইক রেনুর ট্রাকের সামনে গাড়ি চালাতে থাকি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অথবা অন্য কোন সমস্যা থাকলে আমরা সিগন্যাল দিলে গাড়ি দিক পরিবর্তন করে। এছাড়া ওই সকল পথে যতগুলো থানা রয়েছে সে থানায় বিট মানি দিয়ে আসছে টুলু। বিট মানির কারণে রাত বারোটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত রেনুপাচার তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না।

ওই ব্যক্তি আরো বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রুপাতলী, আমতলার মোড়, চৌমাথা, কাশিপুর চৌমাথা এসব এলাকা পার করার দায়িত্ব সেখানকার বিএনপির কিছু নেতাদের। তাদেরকে প্রতিদিনের বিট মানি দিয়ে থাকেন টুলু। এভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার রেনু পোনা পাচার হচ্ছে বরিশাল থেকে।

এ ব্যাপারে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। তারা তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেবে। একই সাথে বলতে চাই আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত কোন নেতাকর্মীকে দলে রাখবেন না। চিহ্নিত হলে তাকে দল থেকে বরখাস্ত সহ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলেন, বাগধা রেনু পাচারে যারা জড়িত সে যেই হোক রাজনৈতিক ব্যক্তি অথবা পুলিশ সদস্য প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকা-কে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। রেনু পাচারের কোন তথ্য থাকলে অবশ্যই যে কোনো সময় তাকে (পুলিশ কমিশনার) জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।