ঢাকাSaturday , 7 November 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তালতলী ভাঙারপাড়ের রেস্টুরেন্টগুলোতে ওসি জহিরুলের নেতৃত্বে আকস্মিক অভিযান, কঠোর সতর্কবার্তা

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১০৭

মো: আম্মার হোসেন আম্মান ::  তালতলী ভাঙারপাড়ের রেস্টুরেন্টগুলোতে কাউনিয়া থানা পুলিশের আকস্মিক অভিযান, কঠোর সতর্কবার্তা ও সময়সীমা নির্ধারণ

ঝোপঝাড় ও আড়াল রাখা যাবে না, দুপুর ১টার আগে খোলা নয়, রাত ১০টার পর বন্ধ—অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে মালিক ও কমিটিকে

বরিশাল সদর উপজেলার তালতলী ভাঙারপাড় এলাকার রেস্টুরেন্টগুলোতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকস্মিক অভিযান ও বিশেষ সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কাউনিয়া থানা পুলিশ। কাউনিয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে রেস্টুরেন্ট মালিক ও সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দকে একাধিক কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাঙারপাড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত ভিডিও নিয়ে বরিশালসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার রেস্টুরেন্টগুলোর পরিবেশ, নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে কোনোভাবেই ঘটতে না পারে, সে লক্ষ্যেই পুলিশের এই বিশেষ উদ্যোগ বলে জানা গেছে।

অভিযানকালে ওসি জহিরুল ইসলাম রেস্টুরেন্ট মালিকদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ভাঙারপাড় এলাকার কোনো রেস্টুরেন্টে ঝোপঝাড়, আড়াল কিংবা এমন কোনো পরিবেশ রাখা যাবে না, যেখানে গোপনীয়তার সুযোগে অনৈতিক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিটি রেস্টুরেন্টের ভেতরের পরিবেশ উন্মুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও দৃশ্যমান রাখতে হবে। রেস্টুরেন্টের প্রতিটি অংশ এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে স্বাভাবিক তদারকি ও নজরদারি নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরও নির্দেশনা দেন, দুপুর ১টার আগে কোনো রেস্টুরেন্ট খোলা রাখা যাবে না এবং রাত ১০টার পর কোনো রেস্টুরেন্ট চালু রাখা যাবে না। নির্ধারিত সময়সীমা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে স্কুলের পোশাক পরা অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীকে এসব রেস্টুরেন্ট এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট কমিটির দায়িত্ব নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান ওসি। তিনি বলেন, এলাকায় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে শুধু সংশ্লিষ্ট রেস্টুরেন্ট মালিক নয়, সমিতির সভাপতি এবং কমিটির সদস্যদেরও তাদের দায়িত্ব ও ভূমিকা সম্পর্কে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা রক্ষায় মালিক সমিতিকে কার্যকর দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, রেস্টুরেন্ট পরিচালনার নামে কোনো ধরনের অনিয়ম, অসামাজিক কর্মকাণ্ড কিংবা অপরাধমূলক কার্যক্রমের সুযোগ দেওয়া হবে না। ব্যবসা করতে হলে নিয়মনীতি মেনে করতে হবে। কোনো রেস্টুরেন্টের আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

এ সময় তিনি মাদক কারবারি, অপরাধী কিংবা সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তালতলী ভাঙারপাড় এলাকায় কোনো মাদক কারবারি, সন্দেহভাজন অপরাধী কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সন্ধান পেলে সরাসরি কাউনিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ করেন। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শুধু রেস্টুরেন্ট মালিকদের সতর্ক করেই দায়িত্ব শেষ করেননি ওসি। অভিভাবকদের প্রতিও দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, কখন বাসা থেকে বের হচ্ছে এবং কখন ফিরছে—এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব এবং সময় কাটানোর স্থান সম্পর্কে অভিভাবকদের খোঁজ রাখা জরুরি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে পরিবারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তালতলী ভাঙারপাড় এলাকার রেস্টুরেন্টগুলোতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, দৃশ্যমান পরিবেশ এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ব্যবসার স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জননিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা এবং এলাকার সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় রেস্টুরেন্ট মালিক, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

কাউনিয়া থানার নবাগত ওসি জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানকে কেবল একটি নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন দেখার বিষয়, পুলিশের দেওয়া নির্দেশনা রেস্টুরেন্ট মালিকরা কতটা বাস্তবায়ন করেন এবং পরবর্তী সময়ে এসব নির্দেশনা মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কতটা নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখে।

পুলিশের বার্তা স্পষ্ট—রেস্টুরেন্ট ব্যবসার আড়ালে কোনো অনিয়ম, অপরাধ কিংবা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তালতলী ভাঙারপাড়ে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।