ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২২ বছর আগে ফিরেছিলেন খালেদা জিয়ার অনুরোধে, এবার আইনমন্ত্রীর আশ্বাসে, আপ্লুত শাহজাহান চৌধুরী

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ৯, ২০২৬ ১১:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬৮

নিজস্ব প্রতিবেদক :: নারীর ময়নাতদন্তে নারী চিকিৎসক : ২২ বছর আগে ফিরেছিলেন খালেদা জিয়ার অনুরোধে, এবার আইনমন্ত্রীর আশ্বাসে, আপ্লুত শাহজাহান চৌধুরী

 

নারীদের পোস্টমর্টেম নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করার দাবি আবারও জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। এ সময় আইনমন্ত্রী জানান, বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনিকভাবে অনুসরণ করা হলেও আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) সংশোধনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বুধবার জাতীয় সংসদে এক বেসরকারি সদস্যের উত্থাপিত পোস্টমর্টেম-সংক্রান্ত সংশোধনী বিলের আলোচনায় এ বিষয়টি উঠে আসে।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমার মনের বড় কষ্ট হলো, আমি ২০০৪ সালেই এই বিলটি মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছিলাম। বিলটি পাসের জন্য টেবিলেও এসেছিল। তখন আমাদের স্পিকার ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। যেদিন বিলটি পাস হওয়ার কথা ছিল, সেদিন আমরা সবাই—আমার দলসহ, তখন আমাদের চারজন সদস্য ছিল—অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে সংসদে উপস্থিত হয়েছিলাম।

 

সেদিন আমাদের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) আমাকে ডেকে বলেছিলেন, ‘আমরা বিলটি বিবেচনা করব, নির্বাহী আদেশ দেব। আপনি বিলটি প্রত্যাহার করে নিন।’ তাঁর সেই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতেই আমি বিলটি প্রত্যাহার করেছিলাম। সে সময় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ২০০৪ সাল থেকে আজ ২০২৬ সাল—এখনো পর্যন্ত পোস্টমর্টেম (সংশোধন) বিলটি আর বাস্তবায়ন হয়নি।

জামায়াত এমপি আরও বলেন, মাননীয় স্পিকার, আপনি নিজেও জানেন, প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায়, বিষপানে, পানিতে ডুবে, নৌকাডুবিতে মানুষ মারা যাচ্ছে। তাদের পোস্টমর্টেমের জন্য যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন স্বজনদের কী অসহনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। একদিকে প্রিয়জনের মৃত্যু, অন্যদিকে পোস্টমর্টেম, এরপর দাফন-কাফন—সব মিলিয়ে পরিবারগুলো চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। এই কষ্ট লাঘবের জন্যই আমি দীর্ঘ ২২ বছরের সাধনার পর আবারও বিলটি এনেছি।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, মাননীয় আইনমন্ত্রী যদি বিলটি প্রত্যাহারের অনুরোধ করে থাকেন, আমি অবশ্যই তাঁকে সম্মান করি। আমার অনুরোধ, বিলটি কমিটিতে পাঠিয়ে আমার প্রস্তাবগুলোও বিবেচনা করা হোক। যেমন—নারীর পোস্টমর্টেম নারী করবেন, পুরুষের পোস্টমর্টেম পুরুষ করবেন। এছাড়া কেউ যদি লিখিতভাবে অনুমতি দিয়ে বলেন যে তিনি কোনো মামলা করবেন না এবং দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিকে সরকারের অনুমতি নিয়ে সরাসরি দাফন করা হোক—সেই ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে।

সংসদে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধিতে ৫৬৫টি ধারা আছে, এর অনেক উপধারাও রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই আইনের ২৯টি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার আরও কিছু ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। শাহজাহান চৌধুরীর বিল পাওয়ার পর গত ৩০ জুন সংসদকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, তার প্রস্তাবসহ আরও কিছু ধারা সংশোধনের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার অচিরেই সংশোধনী আনবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যেটা এনেছেন নীতিগতভাবে এটার সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করব না। বাট আমরা যেহেতু এটা আনছি একই সাথে এটা কমপ্লিট করব। তিনি আপাতত বিলটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান আলোচনায় বলেন, নারী মরদেহের ময়নাতদন্ত নারী চিকিৎসক দিয়ে করার বিষয়টি এখনো সারাদেশে কার্যকর হয়নি। এটি কার্যকর করা জরুরি।

আইনমন্ত্রী পরে আবার বলেন, শাহজাহান চৌধুরী ‘ভ্যালিড পয়েন্ট’ তুলেছেন। এ বিষয়ে সরকারের দ্বিমত নেই। তিনি বলেন, নারী মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্মান রেখে এবং সম্ভব হলে নারী চিকিৎসক দিয়ে করার চর্চা প্রশাসনিকভাবে চালু আছে। হাজতখানায় নারীকে নারী পুলিশ দিয়ে দেখভালের বিষয়টিও এ চর্চার অংশ হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার সময়ে এ বিষয়ে প্রশাসনিক আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কোথাও কোথাও নারী চিকিৎসক না থাকায় বাস্তবায়নে সমস্যা হয়।

এরপর শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বিলটি পাস হওয়ার আগেই তিনি বেসরকারি সদস্য বিল হিসেবে তার প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তিনি ওই বিলও প্রত্যাহার করে নেন।