ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তালাবদ্ধ কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি  ওষুধ-সরঞ্জাম উদ্ধার

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ৯, ২০২৬ ৩:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৪৩

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি :: বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিনের একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, সার্জিক্যাল সরঞ্জাম এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মালামালের পরিমাণ ও আর্থিক মূল্য সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই হাসপাতালে কর্মরত আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনের জন্য ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকা একটি কক্ষের তালা ভেঙে খোলা হয়। এ সময় সেখানে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুদ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উদ্ধার হওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ গোপনে সরিয়ে ফেলা বা নষ্ট করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান স্টোরকিপার মো. রিয়াজ জানান, সাবেক স্টোরকিপার মনির হোসেন তার কাছে স্টোরের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। ফলে তালাবদ্ধ ওই কক্ষে কী ছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। বর্তমানে মনির হোসেন বরিশাল সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, তালাবদ্ধ কক্ষটির চাবি দীর্ঘদিন সাবেক স্টোরকিপার মনির হোসেনের কাছেই ছিল এবং তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে আসতেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মনির হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুস সাকিব তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মালামালের পরিমাণ বা মূল্য সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর এলাহী বলেন, “ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি। তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ না থাকায় প্রায়ই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। অথচ দীর্ঘদিন সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম তালাবদ্ধ কক্ষে পড়ে থাকার ঘটনায় হাসপাতালের সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।