ঢাকাSunday , 2 August 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ৬৬ শতাংশ সরবরাহ আর লোডশেডিং ৩৪ শতাংশ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে আবারও তীব্র হয়েছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি । বরিশাল নগরের নাজিরের পুল, ফকিরবাড়ি, নতুন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। আর নগরে তুলনায় বরিশালের উপজলোগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে আরও বেশি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে বরিশালের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও একেক দফায় এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোনো এলাকায় দিনে দশ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা। বরিশাল নগর ও জেলায় চাহিদার ৬৬ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। আর লোডশেডিং হচ্ছে ৩৪ শতাংশ। সব থেকে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জে।

পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্র বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ আজকের বার্তাকে বলেন, ‍”বরিশাল নগর ও উপজেলা মিলিয়ে ১৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে কিন্তু সরবারাহ হচ্ছে ১২২ মেগাওয়াট।” চাহিদার থেকে ৬৩মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে।

বরিশাল নগর, সদর উপজেলা, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী, হিজলাসহ বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দাদের অভিযোগ দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে এবং গরমে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট বেড়েছে।

বরিশাল নগরের গড়িয়ার পাড়ের বাসিন্দা সুজন মৃধা বলেন, গত ৩-৪ দিন ধরে অনেক লোডশেডিং হচ্ছে। শিশুদের ঘুমাতে সমস্যা হয়।

শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সন্ধ্যার পর পড়াশোনার সময় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।

নগরের মধু মিয়ার পোল এলাকার বাসিন্দা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ফারিয়া আক্তার বলেন, বলেন, “অনার্স প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। বিদ্যুৎ কিছুক্ষণ পর পর চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় বেশ সমস্যা হচ্ছে। মোমবাতি কিনে পড়াশোনা করছি।”

হিজলা উপজেলার বাসিন্দা আইয়ুব আলী বলেন, “দিনে ১০ বার বিদ্যুৎ যায়। রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। ঘণ্টাখানেক বিদ্যুৎ থাকে, আবার চলে যায়। আবার দেড়ঘন্টা পর এসে ঘন্টাখানেক থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশের সব থেকে কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি আমরা”

আর মেহেন্দিগঞ্জের বাসিন্দা আক্কাস মোল্লা বলেন, “আমাদের এখানে বিদ্যুৎ যায় না মাঝে মধ্যে আসে।”

এ বিষয়ে হিজলা,মুলাদী, ও মেহেন্দিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর জেনারেল ম্যানেজার এ বি এম মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জে চাহিদার মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। এই তিন উপজলো ও বরিশাল সদরের শায়েস্তাবাদের একটা অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা তার ছিঁড়ে গেছে। বিকল্প তার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে কিন্তু তাতে পর্যাপ্ত লোড নিতে পারছে না ফলে লোডশেডিং বেশি হয়।